প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশে সন্ধ্যা ৭টা) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যেমন, পাশাপাশি দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে নাগরিকবান্ধব যে সংস্কার কর্মসূচি চলমান রয়েছে, সে কথা বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক রাজনীতি, ফিলিস্তিন ইস্যুসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, গত বছর আমাদের জনগণ প্রমাণ করেছে, এ পৃথিবীতে অন্যায়ের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। এই পরিবর্তন অনিবার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেছেন, পৃথিবীর কোনো একটি দেশ সংকটে পড়লে সমগ্র বিশ্বই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তিনি আশাবাদ বক্তব্য করেন, কার্বন, সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ ও বেকারত্ব-এই তিন সংকটকে শূন্যে নামিয়ে আনার কর্মযজ্ঞে তরুণ সমাজ সফল হবে এবং এর ভিত্তিতে গড়ে তুলবে নতুন পৃথিবী।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতাটি দীর্ঘ। তিনি একদিকে যেমন বলেছেন বাস্তবতার কথা, অন্যদিকে দার্শনিকতায় তিনি মুগ্ধ করেছেন বিশ্ব নেতৃত্বকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান তার কথায় নতুন চিন্তা, নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। এই বক্তৃতার জন্য জাতি হিসাবে আমরা গৌরববোধ করতে পারি।
বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য তিনি যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা তার দেশপ্রেমের পরিচায়ক। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করায় আমরা একদিকে আশ্বস্ত হয়েছি, অন্যদিকে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও ফলপ্রসূ করার তাগিদ অনুভব করেছি। বস্তুত, এখন দরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব স্টেকহোল্ডারকে আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা। চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে অবশ্যই। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য ছিল ভারসাম্যপূর্ণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিপীড়নবাদী স্বৈরশাসনের অবসানের পর এই লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না আমাদের। দ্বিতীয়ত, আমাদের সদাসর্বদা সজাগ থাকতে হবে, দেশের অগ্রযাত্রায় কোনো অপশক্তি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অপশক্তি রুখতে হলে এ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য জরুরি। দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে কোনো অপতৎপরতার সময় জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন এমন বৈরিতার জন্ম না দেয়, যা অপশক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারে। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান ফি-বছর ঘটবে না। তাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে সংহত করতে হবে। এই সংহতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে দেশ।




















