ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়া সম্পর্ক জোরদারে একমত দুই দেশ

ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) বৈঠকে রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি (পূর্ব ও পশ্চিম) অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত ড. এম. নজরুল ইসলাম। লিথুয়ানিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী মি. ভিদমান্তাস ভারবিকাস।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনার শুরুতে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনস আয়োজনসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা নিজ নিজ পক্ষের হয়ে এতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিদ্যমান সম্পর্ককে সময়োপযোগী করে তোলা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ ধরনের সফর দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পূর্তি যথাযোগ্যভাবে উদ্‌যাপনের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে গত কয়েক দশকে দুই দেশের সম্পর্কের অর্জনগুলো তুলে ধরা এবং আগামী বছরগুলোতে বন্ধুত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনস বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়া সম্পর্ক জোরদারে একমত দুই দেশ

আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) বৈঠকে রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি (পূর্ব ও পশ্চিম) অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত ড. এম. নজরুল ইসলাম। লিথুয়ানিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী মি. ভিদমান্তাস ভারবিকাস।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনার শুরুতে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনস আয়োজনসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা নিজ নিজ পক্ষের হয়ে এতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিদ্যমান সম্পর্ককে সময়োপযোগী করে তোলা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ ধরনের সফর দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পূর্তি যথাযোগ্যভাবে উদ্‌যাপনের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে গত কয়েক দশকে দুই দেশের সম্পর্কের অর্জনগুলো তুলে ধরা এবং আগামী বছরগুলোতে বন্ধুত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনস বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।