ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণে জনস্বাস্থ্যে নতুন সতর্কবার্তা

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলার পীরগাছা ও পীরগঞ্জ এলাকায় গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর একাধিক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকায় অসুস্থ গরু জবাই ও সংক্রমিত মাংস ও চামড়ার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ত্বকীয় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয়। স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি বা সংরক্ষণের কাজে জড়িত ছিলেন। আক্রান্ত এলাকাগুলোয় এরই মধ্যে পশুর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। এসব উদাহরণ স্পষ্ট করে যে আক্রান্ত পশু ও তাদের পণ্য ব্যবহারে অসচেতনতা এবং মরদেহের অনিয়ন্ত্রিত নিষ্পত্তি রোগ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অ্যানথ্রাক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীজনিত সংক্রামক ব্যাধি, যা ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস (Bacillus anthracis) ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ঘটে ও মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই বর্ষাকাল বা তার পরপর কিছু এলাকায় এ রোগের বিক্ষিপ্ত সংক্রমণ দেখা যায়। সম্প্রতি দেশের মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা জনস্বাস্থ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে রোগটির বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে অ্যানথ্রাক্স নতুন রোগ নয়। বিভিন্ন দেশে অতীতে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের একাধিক ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বায়োসিকিউরিটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সভের্দলভস্ক শহরে (বর্তমান রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গ) একটি সামরিক গবেষণাগারে দুর্ঘটনাজনিতভাবে অ্যানথ্রাক্স স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় আশপাশের বসবাসকারী কারখানার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী কমপক্ষে ৬৬ জন মৃত্যুবরণ করেন, যদিও বেসরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই ইনহেলেশনাল বা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ। এ ঘটনা প্রথমে গোপন রাখা হলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর আন্তর্জাতিক তদন্তে বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং ইতিহাসে এটি ইনহেলেশনাল অ্যানথ্রাক্সের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও আতঙ্কজনক অ্যানথ্রাক্স প্রাদুর্ভাব, যা ‘অ্যানথ্রাক্স লেটার অ্যাটাক’ নামে পরিচিত। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার কিছুদিন পর ডাকযোগে অ্যানথ্রাক্স স্পোর মিশ্রিত চিঠি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। এতে ২২ ব্যক্তি সংক্রমিত হন, যাদের মধ্যে ১১ জনের ইনহেলেশনাল ও ১১ জনের কিউটেনিয়াস সংক্রমণ শনাক্ত হয়; আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, সারা বিশ্বে বায়োটেররিজম ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে একটি মার্কিন গবেষণাগারের বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যা প্রমাণ করে যে অ্যানথ্রাক্স শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হিসেবেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আফ্রিকার দেশগুলোয় প্রায়ই গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে জাম্বিয়ার ওয়েস্টার্ন প্রদেশে একটি বৃহৎ প্রাদুর্ভাবের সময় শতাধিক মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যার মূল উৎস ছিল সংক্রমিত গরুর মাংস খাওয়া এবং মৃত পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত। ২০১৭ সালে নামিবিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে জলহস্তী ও হরিণের মাংস খেয়ে বহু মানুষ সংক্রমিত হয় এবং কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। এসব অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্তকরণ ও টিকাদান কাঠামো দুর্বল থাকায় প্রাদুর্ভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

এছাড়া ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে এক বিশেষ ঘটনা ঘটে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে গলিত পারমাফ্রস্ট থেকে বহু বছর আগে মৃত হরিণের দেহাবশেষে থাকা অ্যানথ্রাক্স স্পোর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় ইয়ামাল উপদ্বীপে শতাধিক হরিণ মারা যায় এবং অন্তত ২০ জন মানুষ সংক্রমিত হয়, যার মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে যে অ্যানথ্রাক্সের স্পোর মাটিতে বহু দশক ধরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আবারো সক্রিয় হয়ে নতুন সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

ওপরের উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে অ্যানথ্রাক্স কেবল একটি স্থানীয় বা পশুজনিত রোগ নয়; বরং এটি বৈশ্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বহুমাত্রিক হুমকি। প্রাকৃতিক সংক্রমণ, দুর্ঘটনাজনিত স্পোর ছড়িয়ে পড়া, বায়োটেররিজম বা জলবায়ু পরিবর্তন—সব ক্ষেত্রেই এ রোগ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশুর লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ মৃত্যু, রক্তক্ষরণ এবং ফুলে যাওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। গরু, ছাগল, ভেড়া বা মহিষের মতো গবাদিপশুতে রোগটি খুব দ্রুতগতিতে ছড়ায় এবং অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। আক্রান্ত পশুর নাক, মুখ, কান বা পায়ু দিয়ে কালো রঙের তরল বা রক্ত বের হয়, যা জমাট বাঁধে না। অনেক সময় পশুর ঘাড় বা শরীরের কিছু অংশ ফুলে যেতে দেখা যায় এবং মৃত্যুর পর শরীর দ্রুত পচে যায়। অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়ার স্পোর পরিবেশে বহু বছর সক্রিয় থাকতে পারে, তাই মৃত পশুর রক্ত বা মাংস খোলা স্থানে থাকলে রোগটি অন্য পশু ও পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পশুর মধ্যে হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেটিকে সাধারণ মৃত্যু ভেবে ফেলে না রেখে সতর্কভাবে পরীক্ষা ও সঠিকভাবে দাফন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ সাধারণত তিনভাবে দেখা যায়—ত্বকীয়, পরিপাকতন্ত্রীয় ও শ্বাসযন্ত্রীয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকীয় অ্যানথ্রাক্স, যা সংক্রমিত পশুর মাংস, রক্ত বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে হয়। ত্বকে প্রথমে ছোট ফোস্কা বা ঘা দেখা দেয়, পরে তা কালো রঙের শক্ত ঘায়ে পরিণত হয় এবং আশপাশের ত্বক ফুলে যায়, তবে সাধারণত ব্যথা অনুভূত হয় না। পরিপাকতন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হলে জ্বর, পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং কখনো রক্ত মেশানো মল দেখা দেয়। সবচেয়ে মারাত্মক হলো শ্বাসযন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্স, যা স্পোর শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে ঘটে; এতে উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা এবং অল্প সময়ের মধ্যে গুরুতর শ্বাসজনিত জটিলতা তৈরি হয়। সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা না পেলে শ্বাসযন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্সের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার খুব বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে সর্বাগ্রে যেটি প্রয়োজন, তা হলো আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গবাদিপশুর ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আক্রান্ত অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে পশুর টিকা প্রদান করতে হবে যাতে সংক্রমণ ছড়ানোর শৃঙ্খল দ্রুত ভেঙে ফেলা যায়। একই সঙ্গে আকস্মিক পশুমৃত্যু ঘটলে স্থানীয় প্রশাসন ও পশু চিকিৎসা বিভাগকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং মরদেহ খোলা স্থানে ফেলে না রেখে গভীর গর্ত করে দাহ বা চুন ছিটিয়ে নিরাপদে মাটিচাপা দিতে হবে। এতে পরিবেশে স্পোর ছড়ানো বন্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে রোগের পুনঃসংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে।

মানুষের ক্ষেত্রে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোয় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা ত্বকে কালচে ঘা, ফোলা বা অস্বাভাবিক ক্ষত দেখলে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বা ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ মজুদ রাখতে হবে এবং রেফারাল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে যাতে জটিল বা সিস্টেমিক কেস দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো যায়।

এছাড়া ল্যাবরেটরি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোও জরুরি। সন্দেহভাজন পশু ও মানব কেস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর বা নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকার ঝুঁকি ম্যাপ তৈরি করে হটস্পট শনাক্ত করে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। মাংসবাজারে কড়া নজরদারি চালানো, অসুস্থ পশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং আক্রান্ত অঞ্চল থেকে মাংস পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করাও রোগ বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবশেষে জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাইকিং, স্থানীয় সভা, পুস্তিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মসজিদ-মন্দিরে বা সামাজিক সমাবেশের মাধ্যমে সহজ ভাষায় বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, যেমন অসুস্থ পশু জবাই না করা, মৃত পশু স্পর্শ না করা, সন্দেহভাজন চর্মরোগ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক, মাংস ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে তারা মাঠপর্যায়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন।

অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণ একটি বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত কার্যক্রম। স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এ রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। সময়োপযোগী টিকাদান, সঠিক মরদেহ ব্যবস্থাপনা, সক্রিয় কেস শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা ও জনসচেতনতা একসঙ্গে বাস্তবায়ন হলে অ্যানথ্রাক্স আর জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।

ড. কবিরুল বাশার: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণে জনস্বাস্থ্যে নতুন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলার পীরগাছা ও পীরগঞ্জ এলাকায় গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর একাধিক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকায় অসুস্থ গরু জবাই ও সংক্রমিত মাংস ও চামড়ার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ত্বকীয় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয়। স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি বা সংরক্ষণের কাজে জড়িত ছিলেন। আক্রান্ত এলাকাগুলোয় এরই মধ্যে পশুর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। এসব উদাহরণ স্পষ্ট করে যে আক্রান্ত পশু ও তাদের পণ্য ব্যবহারে অসচেতনতা এবং মরদেহের অনিয়ন্ত্রিত নিষ্পত্তি রোগ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অ্যানথ্রাক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীজনিত সংক্রামক ব্যাধি, যা ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস (Bacillus anthracis) ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ঘটে ও মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই বর্ষাকাল বা তার পরপর কিছু এলাকায় এ রোগের বিক্ষিপ্ত সংক্রমণ দেখা যায়। সম্প্রতি দেশের মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা জনস্বাস্থ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে রোগটির বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে অ্যানথ্রাক্স নতুন রোগ নয়। বিভিন্ন দেশে অতীতে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের একাধিক ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বায়োসিকিউরিটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সভের্দলভস্ক শহরে (বর্তমান রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গ) একটি সামরিক গবেষণাগারে দুর্ঘটনাজনিতভাবে অ্যানথ্রাক্স স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় আশপাশের বসবাসকারী কারখানার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী কমপক্ষে ৬৬ জন মৃত্যুবরণ করেন, যদিও বেসরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই ইনহেলেশনাল বা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ। এ ঘটনা প্রথমে গোপন রাখা হলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর আন্তর্জাতিক তদন্তে বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং ইতিহাসে এটি ইনহেলেশনাল অ্যানথ্রাক্সের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও আতঙ্কজনক অ্যানথ্রাক্স প্রাদুর্ভাব, যা ‘অ্যানথ্রাক্স লেটার অ্যাটাক’ নামে পরিচিত। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার কিছুদিন পর ডাকযোগে অ্যানথ্রাক্স স্পোর মিশ্রিত চিঠি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। এতে ২২ ব্যক্তি সংক্রমিত হন, যাদের মধ্যে ১১ জনের ইনহেলেশনাল ও ১১ জনের কিউটেনিয়াস সংক্রমণ শনাক্ত হয়; আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, সারা বিশ্বে বায়োটেররিজম ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে একটি মার্কিন গবেষণাগারের বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যা প্রমাণ করে যে অ্যানথ্রাক্স শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হিসেবেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আফ্রিকার দেশগুলোয় প্রায়ই গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে জাম্বিয়ার ওয়েস্টার্ন প্রদেশে একটি বৃহৎ প্রাদুর্ভাবের সময় শতাধিক মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যার মূল উৎস ছিল সংক্রমিত গরুর মাংস খাওয়া এবং মৃত পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত। ২০১৭ সালে নামিবিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে জলহস্তী ও হরিণের মাংস খেয়ে বহু মানুষ সংক্রমিত হয় এবং কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। এসব অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্তকরণ ও টিকাদান কাঠামো দুর্বল থাকায় প্রাদুর্ভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

এছাড়া ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে এক বিশেষ ঘটনা ঘটে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে গলিত পারমাফ্রস্ট থেকে বহু বছর আগে মৃত হরিণের দেহাবশেষে থাকা অ্যানথ্রাক্স স্পোর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় ইয়ামাল উপদ্বীপে শতাধিক হরিণ মারা যায় এবং অন্তত ২০ জন মানুষ সংক্রমিত হয়, যার মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে যে অ্যানথ্রাক্সের স্পোর মাটিতে বহু দশক ধরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আবারো সক্রিয় হয়ে নতুন সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

ওপরের উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে অ্যানথ্রাক্স কেবল একটি স্থানীয় বা পশুজনিত রোগ নয়; বরং এটি বৈশ্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বহুমাত্রিক হুমকি। প্রাকৃতিক সংক্রমণ, দুর্ঘটনাজনিত স্পোর ছড়িয়ে পড়া, বায়োটেররিজম বা জলবায়ু পরিবর্তন—সব ক্ষেত্রেই এ রোগ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশুর লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ মৃত্যু, রক্তক্ষরণ এবং ফুলে যাওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। গরু, ছাগল, ভেড়া বা মহিষের মতো গবাদিপশুতে রোগটি খুব দ্রুতগতিতে ছড়ায় এবং অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। আক্রান্ত পশুর নাক, মুখ, কান বা পায়ু দিয়ে কালো রঙের তরল বা রক্ত বের হয়, যা জমাট বাঁধে না। অনেক সময় পশুর ঘাড় বা শরীরের কিছু অংশ ফুলে যেতে দেখা যায় এবং মৃত্যুর পর শরীর দ্রুত পচে যায়। অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়ার স্পোর পরিবেশে বহু বছর সক্রিয় থাকতে পারে, তাই মৃত পশুর রক্ত বা মাংস খোলা স্থানে থাকলে রোগটি অন্য পশু ও পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পশুর মধ্যে হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেটিকে সাধারণ মৃত্যু ভেবে ফেলে না রেখে সতর্কভাবে পরীক্ষা ও সঠিকভাবে দাফন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ সাধারণত তিনভাবে দেখা যায়—ত্বকীয়, পরিপাকতন্ত্রীয় ও শ্বাসযন্ত্রীয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকীয় অ্যানথ্রাক্স, যা সংক্রমিত পশুর মাংস, রক্ত বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে হয়। ত্বকে প্রথমে ছোট ফোস্কা বা ঘা দেখা দেয়, পরে তা কালো রঙের শক্ত ঘায়ে পরিণত হয় এবং আশপাশের ত্বক ফুলে যায়, তবে সাধারণত ব্যথা অনুভূত হয় না। পরিপাকতন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হলে জ্বর, পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং কখনো রক্ত মেশানো মল দেখা দেয়। সবচেয়ে মারাত্মক হলো শ্বাসযন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্স, যা স্পোর শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে ঘটে; এতে উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা এবং অল্প সময়ের মধ্যে গুরুতর শ্বাসজনিত জটিলতা তৈরি হয়। সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা না পেলে শ্বাসযন্ত্রীয় অ্যানথ্রাক্সের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার খুব বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে সর্বাগ্রে যেটি প্রয়োজন, তা হলো আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গবাদিপশুর ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আক্রান্ত অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে পশুর টিকা প্রদান করতে হবে যাতে সংক্রমণ ছড়ানোর শৃঙ্খল দ্রুত ভেঙে ফেলা যায়। একই সঙ্গে আকস্মিক পশুমৃত্যু ঘটলে স্থানীয় প্রশাসন ও পশু চিকিৎসা বিভাগকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং মরদেহ খোলা স্থানে ফেলে না রেখে গভীর গর্ত করে দাহ বা চুন ছিটিয়ে নিরাপদে মাটিচাপা দিতে হবে। এতে পরিবেশে স্পোর ছড়ানো বন্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে রোগের পুনঃসংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে।

মানুষের ক্ষেত্রে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোয় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা ত্বকে কালচে ঘা, ফোলা বা অস্বাভাবিক ক্ষত দেখলে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বা ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ মজুদ রাখতে হবে এবং রেফারাল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে যাতে জটিল বা সিস্টেমিক কেস দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো যায়।

এছাড়া ল্যাবরেটরি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোও জরুরি। সন্দেহভাজন পশু ও মানব কেস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর বা নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকার ঝুঁকি ম্যাপ তৈরি করে হটস্পট শনাক্ত করে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। মাংসবাজারে কড়া নজরদারি চালানো, অসুস্থ পশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং আক্রান্ত অঞ্চল থেকে মাংস পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করাও রোগ বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবশেষে জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাইকিং, স্থানীয় সভা, পুস্তিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মসজিদ-মন্দিরে বা সামাজিক সমাবেশের মাধ্যমে সহজ ভাষায় বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, যেমন অসুস্থ পশু জবাই না করা, মৃত পশু স্পর্শ না করা, সন্দেহভাজন চর্মরোগ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক, মাংস ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে তারা মাঠপর্যায়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন।

অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণ একটি বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত কার্যক্রম। স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এ রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। সময়োপযোগী টিকাদান, সঠিক মরদেহ ব্যবস্থাপনা, সক্রিয় কেস শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা ও জনসচেতনতা একসঙ্গে বাস্তবায়ন হলে অ্যানথ্রাক্স আর জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।

ড. কবিরুল বাশার: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়