ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা। তাঁদের পরিচালিত এই গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, দীর্ঘদিনের গবেষণার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাব্যতা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রকল্পটির গবেষক ও কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ প্রক্রিয়াজাত করে কীভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গবেষণার ফলাফল ও প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনা করে এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

১০ বছরের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ বা এইচটিএল প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে বর্জ্যকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে জৈব অপরিশোধিত তেল, যা ‘বায়োক্রুড’ নামে পরিচিত, উৎপাদন করা হয়।

গবেষণাগারে চালানো পরীক্ষায় ব্যবহৃত বর্জ্য থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ছাড়া ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও তাঁরা সাফল্য পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই অগ্রগতি প্রযুক্তিটিকে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে গবেষণাগারে পাওয়া ফলাফলকে সরাসরি বাণিজ্যিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তব পরিবেশে বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির গুণগত মান এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই গবেষণার পরবর্তী ধাপে পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্থাপন করা হবে পাইলট প্ল্যান্ট

গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্ল্যান্টে প্রযুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ, প্রক্রিয়াকরণের কার্যকারিতা এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে গবেষণাগারের পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে প্রযুক্তিটিকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

জ্বালানি আমদানি কমানোর সম্ভাবনা

গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে দেশে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প হিসেবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত এই জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এমনটি বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। তবে এ হিসাব সম্ভাব্য উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণের ধারণার ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ধারণে প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের প্রযুক্তি কার্যকর হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে দেশে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশে এটি অবদান রাখতে পারে।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন যারা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি এখন পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করছে। এসব ধাপে সফলতা এলে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা। তাঁদের পরিচালিত এই গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, দীর্ঘদিনের গবেষণার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাব্যতা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রকল্পটির গবেষক ও কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ প্রক্রিয়াজাত করে কীভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গবেষণার ফলাফল ও প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনা করে এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

১০ বছরের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ বা এইচটিএল প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে বর্জ্যকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে জৈব অপরিশোধিত তেল, যা ‘বায়োক্রুড’ নামে পরিচিত, উৎপাদন করা হয়।

গবেষণাগারে চালানো পরীক্ষায় ব্যবহৃত বর্জ্য থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ছাড়া ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও তাঁরা সাফল্য পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই অগ্রগতি প্রযুক্তিটিকে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে গবেষণাগারে পাওয়া ফলাফলকে সরাসরি বাণিজ্যিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তব পরিবেশে বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির গুণগত মান এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই গবেষণার পরবর্তী ধাপে পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্থাপন করা হবে পাইলট প্ল্যান্ট

গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্ল্যান্টে প্রযুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ, প্রক্রিয়াকরণের কার্যকারিতা এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে গবেষণাগারের পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে প্রযুক্তিটিকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

জ্বালানি আমদানি কমানোর সম্ভাবনা

গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে দেশে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প হিসেবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত এই জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এমনটি বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। তবে এ হিসাব সম্ভাব্য উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণের ধারণার ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ধারণে প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের প্রযুক্তি কার্যকর হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে দেশে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশে এটি অবদান রাখতে পারে।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন যারা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি এখন পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করছে। এসব ধাপে সফলতা এলে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।