বাকশালের নতুন সংস্করণ ‘হাসিনা সরকার’: মোশাররফ
ঢাকা: বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের রাজনীতির খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে- এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য তারা বাকশালী কায়দায় দেশ পরিচালনা করবে। কারণ সেই বাকশালেরই নতুন সংস্করণ শেখ হাসিনা সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন দিয়ে অগণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে অবৈধভাবে যারা নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নির্বাচন দিতে এবং গণতন্ত্রকে ভয় পায়।’
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই দেশে এখন জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সবন্দি। তারা অলিখিতভাবে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা কোনো সমালোচনা, বিরোধিতা সহ্য করতে পারে না। বিরোধীদলকে সভা সমাবেশ করতে দেয় না। অনুমতির নামে পুলিশ দিয়ে সকল জনগণকে ধাবিয়ে রেখেছে। প্রতিবাদ করার পথ থেকে বিরত রেখেছে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মত্যাগ ও গৌরবের ঘটনাবহুল দিন। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই আওয়ামী সরকারের সময়ে একটি কলঙ্কময় দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজকে কোথায় ভুলুণ্ঠিত। কোথায় স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব? ১/১১ এর ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনরা ষড়যন্ত্র করে রাষ্ট্রক্ষমতা শেখ হাসিনার হাতে দিয়ে যায়। আর তিনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় এসেই তাদের যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ নিলেন এই পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ট্র্যাজিডির ঘটনা ঘটিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘পিলখানার অসন্তেুাষ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তা করা হয় না। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের মাটিতে বিডিআর পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়েও এতগুলো কর্মকর্তা হত্যা হয়নি, অথচ একদিনে এতগুলো কর্মকর্তাকে হত্যা করা হলো।’
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতে হত্যা করা হয়নি। হত্যা করা হয়েছে কার স্বার্থে? আমরা জিজ্ঞাসা করতে চাই- এই হত্যা নিশ্চয় বাংলাদেশের কোনো স্বার্থে করা হয়নি। তাহলে কাদের স্বার্থে এই বিডিআর হত্যা? নিশ্চয় কোনো বিদেশির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার স্বার্থে চৌকশ কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। মোটের উপর এই আওয়ামী লীগ সরকার শুধু নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, বিদেশিদের খুশি করা ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপতি সংলাপ করেছেন। কিন্তু ফলাফল দিতে পারেনি। যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রপতি শুরু করেছিলেন, আমাদের বিশ্বাস আওয়ামী সরকারের হস্তক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। দাবি ছিল ‘দল নিরপেক্ষ’ সিইসি গঠন করতে হবে। কিন্তু এমন একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে যিনি আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থক। এমনকি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।’
মোশাররফ বলেন, ‘বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে এদেশে কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগ আবারও বিনাভোটে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতেই রকিব মার্কা আরেকটি নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা বলতে চাই, সামনে আরও কয়েকটি নির্বাচন আছে, সেই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ হবে এই নির্বাচন কমিশনও রকিব মার্কা কমিশন কিনা।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সময় থাকতে যদি হুশ না আসে তাহলে এই দেশে গণঅভূত্থান হবে।’
খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, রাজনৈতিক। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা, কোনো ভিত্তি নেই। যদি এই দেশে এক আইন থাকে তাহলে শেখ হাসিনার মামলার মতো খালেদা জিয়ার মামলাও টিকতে পারে না। এবং খালেদা জিয়াকে কোনোদিন কারাগারে যেতে হবে না।’
বিএনপি এই নেতা আরও বলেন, ‘এই দেশে যদি রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রাজিনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলা করতে হয়, জনগণের ভোটাধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হয় তাহলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিকল্প নেই।’
























