জাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেতা-কর্মীসহ ১২ জন বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে আজীবন বহিষ্কারসহ পৃথক ঘটনায় ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় ১০ জনকে ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই জনকে সাময়িক এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের একজন শিক্ষার্থী মারধর ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি উভয় ঘটনায় আলাদাভাবে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য জানান। বহিষ্কারের এসব আদেশ গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় অনুমোদন করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা বিধির ৪ ও ৫ নং ধারা অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের মো. জাহিদুল ইসলাম।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জাবি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা বিধিমালার ৫নং ধারা অনুযায়ী জাহিদুল ইসলাম এর ছাত্রত্ব বাতিল করা হলো এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় হতে চিরতরে বহিষ্কার করা হলো।’
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এস এম শরীফ আহমেদ ও গণিত বিভাগের মো. নাজমুল হুদা। এদের মধ্যে শরীফ আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির দপ্তর সম্পাদক এবং নাজমুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে- “গত ১৮ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি চলাকালীন জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে শৃঙ্খলা বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ হতে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।”
একই সঙ্গে এই ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া গত ১০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ও বটতলায় মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কৃতরা হলেন- ৪০তম আবর্তনের অর্থনীতি বিভাগের সাইদুল, ৪১তম আবর্তনের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের মো. মিজানুর রহমান, দর্শন বিভাগের ৪২তম আবর্তনের জাহিদ হাসান শিহাব, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. ইয়াছিন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, গণিত বিভাগের নাজমুল হুদা ও দীব্যেন্দু বিশ্বাস দ্বীপ এবং ৪৫তম আবর্তনের অর্থনীতি বিভাগের জহুরুল হক, এস এম ইনামুজ্জামান শুভ ও আশিকুর রহমান।
বহিষ্কৃতরা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী। এদের মধ্যে গণিত বিভাগের নাজমুল হুদা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায়ও আলাদাভাবে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এদের বিষয়ে শৃঙ্খলা বিধির ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী সিন্ডিকেটে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার অধিকতর তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করার জন্য বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম বদিয়ার রহমানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত থাকাকালীন এসব ছাত্ররা হলে অবস্থান করতে এবং ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য ছাত্রদলের শহীদ রফিক জব্বার হলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলামকে শৃঙ্খলা বিধিমালার ৫নং ধারা অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব বাতিল এবং বিশ^বিদ্যালয় থেকে তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, “আমরা বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজনকে বহিষ্কারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের কথা শুনেছি। এদের মধ্যে ছাত্রলীগের কেউ থাকলে তাদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”























