ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা

দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন: দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা। সোমবার উচ্চ আদালতে রিভিউ পিটিশনের শুনানি শেষে দেওয়া রায়ে এ মর্যাদা পান তারা। প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ রায়ের ফলে সহকারী ও স্টেশন মাস্টাররা দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদার পাশাপাশি একধাপ উপরের গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। শ্রমিক নেতারা শিগগির আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ১৯৭৭ সালের পে-স্কেলে এক গ্রেড নিচে বেতন নির্ধারণ করায় ২০০৫ সালে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়ন। ২০১১ সালের ইউনিয়নের পক্ষে রায় দেয় আদালত। ওই রায়ে ১৯৭৭ সাল থেকে কর্মচারীদের এরিয়ারসহ পূর্ণাঙ্গ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরপর ২০১৫ সালের ৮ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এরপর পুনরায় রিভিউ পিটিশন দায়ের করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ভিত্তি না থাকায় শুনানি শেষে আদালত মামলা খারিজ করে দেন। ফলে ১৯৭৭ সালে দেওয়া রায় পুনর্বহাল থাকে। কর্মচারীদের এরিয়ারসহ পূর্ণাঙ্গ সুবিধার পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদি বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাংলাস্টেটমেন্টকে বলেন, বেতন স্কেল একধাপ নিচে নামিয়ে দেওয়ার কারণে ১৯৭৭ সাল থেকে স্টেশন মাস্টারদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। আজ স্টেশন মাস্টারদের জন্য খুবেই খুশির দিন।

রেলমন্ত্রী ও সচিব রায় কার্যকরের বিষয়ে আন্তরিক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন বাংলাস্টেটমেন্টকে বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে স্টেশন মাস্টারদের যোগ্যতা স্নাতক করা হলেও যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন স্কেল দেওয়া হয়নি। বাড়েনি পদ মর্যাদাও।

বেতন বৈষম্য ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা। গত বছর সংবাদ সম্মেলন করে রেল সারাদেশে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া রেল মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিয়ে আসছে। মামলার প্রায় ১২ বছর পর রায় পক্ষে আসায় উল্লাসে মেতে উঠে সহকারী ও স্টেশন মাস্টাররা। তাদের দাবি দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে সবার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হোক।

দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা

আপডেট সময় : ০৭:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন: দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা পেল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা। সোমবার উচ্চ আদালতে রিভিউ পিটিশনের শুনানি শেষে দেওয়া রায়ে এ মর্যাদা পান তারা। প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ রায়ের ফলে সহকারী ও স্টেশন মাস্টাররা দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদার পাশাপাশি একধাপ উপরের গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। শ্রমিক নেতারা শিগগির আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ১৯৭৭ সালের পে-স্কেলে এক গ্রেড নিচে বেতন নির্ধারণ করায় ২০০৫ সালে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়ন। ২০১১ সালের ইউনিয়নের পক্ষে রায় দেয় আদালত। ওই রায়ে ১৯৭৭ সাল থেকে কর্মচারীদের এরিয়ারসহ পূর্ণাঙ্গ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরপর ২০১৫ সালের ৮ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এরপর পুনরায় রিভিউ পিটিশন দায়ের করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ভিত্তি না থাকায় শুনানি শেষে আদালত মামলা খারিজ করে দেন। ফলে ১৯৭৭ সালে দেওয়া রায় পুনর্বহাল থাকে। কর্মচারীদের এরিয়ারসহ পূর্ণাঙ্গ সুবিধার পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদি বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাংলাস্টেটমেন্টকে বলেন, বেতন স্কেল একধাপ নিচে নামিয়ে দেওয়ার কারণে ১৯৭৭ সাল থেকে স্টেশন মাস্টারদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। আজ স্টেশন মাস্টারদের জন্য খুবেই খুশির দিন।

রেলমন্ত্রী ও সচিব রায় কার্যকরের বিষয়ে আন্তরিক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন বাংলাস্টেটমেন্টকে বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে স্টেশন মাস্টারদের যোগ্যতা স্নাতক করা হলেও যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন স্কেল দেওয়া হয়নি। বাড়েনি পদ মর্যাদাও।

বেতন বৈষম্য ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টাররা। গত বছর সংবাদ সম্মেলন করে রেল সারাদেশে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া রেল মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিয়ে আসছে। মামলার প্রায় ১২ বছর পর রায় পক্ষে আসায় উল্লাসে মেতে উঠে সহকারী ও স্টেশন মাস্টাররা। তাদের দাবি দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে সবার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হোক।