পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সম্প্রতি কম্পানিটির একটি ওষুধপণ্যের বাজারজাতকরণের স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ওষুধবাজারে একমির প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলো, যা কম্পানিটির রপ্তানি আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পেশির ব্যথা নিরাময়ক ওষুধ ‘ক্লোরজক্সাজোন ৫০০ মিলিগ্রাম’ ট্যাবলেটের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ।
ওষুধটি একমির সলিড ডোজ ইউনিট (এসডিইউ-ইউনিট-২) কারখানায় উৎপাদিত হয়। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরাসরি রপ্তানি ও বিপণনের সুযোগ পাবে।কম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ সম্পন্ন বাজারে এফডিএর অনুমোদন পাওয়া একমির জন্য বড় অর্জন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কম্পানিটির ব্র্যান্ড গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ মানে শুধু একটি নতুন বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক ওষুধবাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরো দৃশ্যমান হওয়া। এতে দেশের ওষুধ খাতের রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এদিকে একমি ল্যাবরেটরিজের আর্থিক অবস্থানেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই ’২৫-সেপ্টেম্বর ’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ১ পয়সা আয় হয়েছে।
গত বছর একই সময়ে কম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৬২ পয়সা আয় হয়েছিল। প্রথম প্রান্তিকে কম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল সাত টাকা ৭ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ৬ টাকা ৪৪ পয়সা ছিল।গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে কম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১২৯ টাকা ৩৮ পয়সা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে আরো জানা গেছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভা আগামী ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও প্রকাশ করা হবে।