ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে হ্রাস পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে টানা পাঁচ দিন বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ শতাংশের বেশি কমেছে তেলের দাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও এখন তা থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তাঁকে আশ্বস্ত করেছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হবে না।
এর ফলে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে আশঙ্কা বিনিয়োগকারীরা করেছিলেন, তা আপাতত কেটেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪.৩৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৫৯.৩৩ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.১৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৬৩.৭৬ ডলার।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপ ও ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে।
কিন্তু বর্তমানে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় তেলের বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরছে।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের তথ্য অনুযায়ী ইরান দিনে প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তৃতীয় বৃহৎ রিজার্ভ রয়েছে।
দেশটির জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় মুনাফা বেশি। কারণ দেশটিতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদনে খরচ পড়ে ১০ ডলার। একইভাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতেও একইভাবে উৎপাদন খরচ কম; যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উৎপাদন খরচ পড়ে প্রতি ব্যারেল ৪০ থেকে ৬০ ডলার।