ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘লাল চন্দন’ ভেবে বিক্রি হচ্ছে নদীতে ভেসে আসা কাঠের গুঁড়ি

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও কালজানি নদীতে পানির স্রোত বেড়েছে। এই স্রোতের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ভেসে এসেছে অসংখ্য কাঠের গুঁড়ি। কাঠগুলোর বেশিরভাগই বাকলবিহীন, শিকড়হীন এবং দেখতে লালচে রঙের। রঙের এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই অনেকেই ভুলবশত এগুলোকে ‘লাল চন্দন’ বা ‘রক্ত চন্দন’ কাঠ মনে করে বিক্রি করছেন।

রোববার (৫ অক্টোবর) ভোর থেকেই দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে এই কাঠের গুঁড়িগুলো ভেসে আসতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা নৌকা, বাঁশের ভেলা ও সাঁতার কেটে নদীতে নেমে পড়েন কাঠ ধরার প্রতিযোগিতায়। কেউ তীরে তুলেই বিক্রি শুরু করেন, কেউ আবার জমিয়ে রাখেন ভবিষ্যতের জন্য।

তীরে তোলা এসব কাঠ ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে একটি বড় আকারের কাঠের গুঁড়ির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যদিও মালিকেরা জানিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজারে তা বিক্রি করবেন।

রায়গঞ্জের দামাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব (৬০) জানান, “আমরা চারজন মিলে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা এক টুকরা লাল কাঠ তুলেছি। দেখতে পুরো চন্দন কাঠের মতো। দাম চেয়েছি দেড় লাখ টাকা, তবে এক লাখ বিশ হাজারে বিক্রি করব।”

অন্যদিকে, কেউ কেউ এসব কাঠ কিনছেন জ্বালানি হিসেবে। কালজানি নদীর পাড়ের বাসিন্দা আজাদ হোসেন (৫৫) বলেন, “আমার খড়ির ব্যবসা আছে। একেকটা কাঠ ১২ হাজার টাকায় কিনেছি—জ্বালানি কাঠ হিসেবে কেটে বিক্রি করব।”

ছিটমাইলানী গ্রামের সবুজ মিয়া (৬২) জানান, “রাতভর পরিবার নিয়ে প্রায় ৫০০ মণ কাঠ তুলেছি। কিছু রাখব নিজের জন্য, বাকিটা বিক্রি করব।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠগুলো পরীক্ষা করেছি। এগুলো চন্দন নয়। দীর্ঘদিন পানিতে ভেসে থাকার কারণে কাঠের রঙ লালচে হয়ে গেছে। আসলে এগুলো সাধারণ কাঠ, বেশিরভাগই পচে গেছে।” তিনি আরও জানান, ভারতের বনাঞ্চল পরিষ্কারের সময় এসব কাঠ নদীতে ফেলা হয়েছিল, সেগুলো স্রোতে ভেসে কুড়িগ্রামে এসেছে।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ অধ্যাপক মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, “বেশিরভাগ কাঠেই ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ থাকে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকলে এসব যৌগ জারণ হয়ে কাঠে লালচে রঙ সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ কাঠও দেখতে চন্দনের মতো লাগে।”

তিনি যোগ করেন, “চন্দন কাঠের একটি বিশেষ সুগন্ধ ও তেলীয় উপাদান থাকে, যা শুকনো কাঠ ঘষলে বোঝা যায়। কিন্তু এসব ভেসে আসা কাঠে সেই গন্ধ বা উপাদান নেই, যা প্রমাণ করে এগুলো চন্দন নয়, সাধারণ গাছের কাঠ।”

ঢাকায় ভোজ্যতেলে সংকট, বোতল ও খোলা তেলে দাম বেড়েছে

‘লাল চন্দন’ ভেবে বিক্রি হচ্ছে নদীতে ভেসে আসা কাঠের গুঁড়ি

আপডেট সময় : ০৫:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও কালজানি নদীতে পানির স্রোত বেড়েছে। এই স্রোতের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ভেসে এসেছে অসংখ্য কাঠের গুঁড়ি। কাঠগুলোর বেশিরভাগই বাকলবিহীন, শিকড়হীন এবং দেখতে লালচে রঙের। রঙের এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই অনেকেই ভুলবশত এগুলোকে ‘লাল চন্দন’ বা ‘রক্ত চন্দন’ কাঠ মনে করে বিক্রি করছেন।

রোববার (৫ অক্টোবর) ভোর থেকেই দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে এই কাঠের গুঁড়িগুলো ভেসে আসতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা নৌকা, বাঁশের ভেলা ও সাঁতার কেটে নদীতে নেমে পড়েন কাঠ ধরার প্রতিযোগিতায়। কেউ তীরে তুলেই বিক্রি শুরু করেন, কেউ আবার জমিয়ে রাখেন ভবিষ্যতের জন্য।

তীরে তোলা এসব কাঠ ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে একটি বড় আকারের কাঠের গুঁড়ির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যদিও মালিকেরা জানিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজারে তা বিক্রি করবেন।

রায়গঞ্জের দামাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব (৬০) জানান, “আমরা চারজন মিলে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা এক টুকরা লাল কাঠ তুলেছি। দেখতে পুরো চন্দন কাঠের মতো। দাম চেয়েছি দেড় লাখ টাকা, তবে এক লাখ বিশ হাজারে বিক্রি করব।”

অন্যদিকে, কেউ কেউ এসব কাঠ কিনছেন জ্বালানি হিসেবে। কালজানি নদীর পাড়ের বাসিন্দা আজাদ হোসেন (৫৫) বলেন, “আমার খড়ির ব্যবসা আছে। একেকটা কাঠ ১২ হাজার টাকায় কিনেছি—জ্বালানি কাঠ হিসেবে কেটে বিক্রি করব।”

ছিটমাইলানী গ্রামের সবুজ মিয়া (৬২) জানান, “রাতভর পরিবার নিয়ে প্রায় ৫০০ মণ কাঠ তুলেছি। কিছু রাখব নিজের জন্য, বাকিটা বিক্রি করব।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠগুলো পরীক্ষা করেছি। এগুলো চন্দন নয়। দীর্ঘদিন পানিতে ভেসে থাকার কারণে কাঠের রঙ লালচে হয়ে গেছে। আসলে এগুলো সাধারণ কাঠ, বেশিরভাগই পচে গেছে।” তিনি আরও জানান, ভারতের বনাঞ্চল পরিষ্কারের সময় এসব কাঠ নদীতে ফেলা হয়েছিল, সেগুলো স্রোতে ভেসে কুড়িগ্রামে এসেছে।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ অধ্যাপক মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, “বেশিরভাগ কাঠেই ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ থাকে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকলে এসব যৌগ জারণ হয়ে কাঠে লালচে রঙ সৃষ্টি করে। তাই সাধারণ কাঠও দেখতে চন্দনের মতো লাগে।”

তিনি যোগ করেন, “চন্দন কাঠের একটি বিশেষ সুগন্ধ ও তেলীয় উপাদান থাকে, যা শুকনো কাঠ ঘষলে বোঝা যায়। কিন্তু এসব ভেসে আসা কাঠে সেই গন্ধ বা উপাদান নেই, যা প্রমাণ করে এগুলো চন্দন নয়, সাধারণ গাছের কাঠ।”