কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, কেউ রোবটিক হাত, আবার কেউ নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি। এমন নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে খুদে বিজ্ঞানীরা। রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুই দিনব্যাপী স্টেম ফেস্টের সমাপনীতে পুরস্কৃত হয়েছে বিজয়ীরা।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।
শনিবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন। রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী এতে অংশ নেয়। মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের অধীনে আয়োজিত উৎসবের লক্ষ্য ছিল বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাপ্রযুক্তির নানা প্রকল্প তুলে ধরে প্রতিযোগীরা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের তৈরি ‘রোবটিক হ্যান্ড’ এবং ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’ ছিল উল্লেখযোগ্য। রোবটিক হ্যান্ডে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। আর ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পারে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানোর সাহায্যে বাধা শনাক্ত করে শব্দের মাধ্যমে সতর্ক করার ব্যবস্থা রয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় ‘সার্কুলার ব্লু’ প্রকল্পে ডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করে নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া ‘ককলিয়া ক্যাপ’, ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’, ‘টিম কার্বন ফাইটার’, ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’, ‘টেক টাইটানস’ ও ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’-এর প্রকল্পে উঠে আসে চিকিৎসা প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশ সুরক্ষার নানা ধারণা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ও আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী বলেন, দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।
অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হকও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও জীবসম্পদ কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুই দিনের এ আয়োজনে ছিল গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, ট্রেজার হান্ট এবং প্রকল্প প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ব্যবহারের মানসিকতা বিকাশের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হয় ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।











