ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বাড়ানোর আহ্বান

হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ালে দেশের তরুণদের এসব পণ্য থেকে অনেকটাই দূরে রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যেখানে তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, কর বাড়ানো হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হবে এবং তরুণদের ধূমপান থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। তার মতে, জনস্বাস্থ্য ও রাজস্বের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা এভাবে সমাধান করা সম্ভব।

তবে তিনি শুধু কর বৃদ্ধিকেই যথেষ্ট মনে করেন না। তার মতে, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে আইন পাসের সময় সেই বিধান বাদ দেওয়া হয়, যা তিনি একটি পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তামাক কর সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি জানান, বর্তমানে ১০ শলাকার সিগারেট প্যাকেটের দাম ৬০ ও ৮০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪০ টাকার প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং ১২৫ টাকার প্যাকেট ২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হতে পারেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক অকালমৃত্যুও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তামাক ব্যবহার কিছুটা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সায়েদ মো. আকরাম হুসাইন। তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হন এবং ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবেও তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বনেতাদের নজরে চীন, বাড়ছে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বাড়ানোর আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ালে দেশের তরুণদের এসব পণ্য থেকে অনেকটাই দূরে রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যেখানে তিনি নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, কর বাড়ানো হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হবে এবং তরুণদের ধূমপান থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। তার মতে, জনস্বাস্থ্য ও রাজস্বের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা এভাবে সমাধান করা সম্ভব।

তবে তিনি শুধু কর বৃদ্ধিকেই যথেষ্ট মনে করেন না। তার মতে, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে আইন পাসের সময় সেই বিধান বাদ দেওয়া হয়, যা তিনি একটি পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তামাক কর সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি জানান, বর্তমানে ১০ শলাকার সিগারেট প্যাকেটের দাম ৬০ ও ৮০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪০ টাকার প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং ১২৫ টাকার প্যাকেট ২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হতে পারেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক অকালমৃত্যুও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তামাক ব্যবহার কিছুটা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সায়েদ মো. আকরাম হুসাইন। তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হন এবং ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবেও তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।