ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (CHOGM) উপলক্ষে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় মালয়েশিয়া সফরের বিষয়টি স্মরণ করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁরা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। তাঁর এ সম্ভাব্য ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে প্রবাসী ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ পরিদর্শন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন উভয় পক্ষ।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাঁর দেশের সমর্থনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগেও মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলে জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

আপডেট সময় : ১২:২৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (CHOGM) উপলক্ষে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় মালয়েশিয়া সফরের বিষয়টি স্মরণ করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁরা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। তাঁর এ সম্ভাব্য ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে প্রবাসী ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ পরিদর্শন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন উভয় পক্ষ।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাঁর দেশের সমর্থনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগেও মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলে জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।