ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

৬ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে মতিঝিলে গভর্নরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এফবিসিসিআই নেতারা ব্যাংক ঋণের সুদের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে এক অঙ্কে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ইডিএফ (Export Development Fund) এর পরিসর বাড়ানো এবং সব ধরনের রপ্তানি খাতের জন্য এটি উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মোস্তাকুর রহমানকে এফবিসিসিআই ও দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাস্তবমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সুদের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর জন্য আর্থিক, রাজস্ব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তাই ধীরে ধীরে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত সহায়তা প্রদান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ কমানো, বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে একক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure) বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক।

এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মো. আলমগীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এফবিসিসিআই সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যারা নিজ নিজ খাতের সমস্যা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

আপডেট সময় : ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

৬ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে মতিঝিলে গভর্নরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এফবিসিসিআই নেতারা ব্যাংক ঋণের সুদের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে এক অঙ্কে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ইডিএফ (Export Development Fund) এর পরিসর বাড়ানো এবং সব ধরনের রপ্তানি খাতের জন্য এটি উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মোস্তাকুর রহমানকে এফবিসিসিআই ও দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাস্তবমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সুদের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর জন্য আর্থিক, রাজস্ব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তাই ধীরে ধীরে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত সহায়তা প্রদান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ কমানো, বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে একক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure) বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক।

এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মো. আলমগীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এফবিসিসিআই সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যারা নিজ নিজ খাতের সমস্যা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন।