ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজারবাগে হামলা জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণায় বাধ্য করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ত্বরান্বিত করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সবচেয়ে বড় গণহত্যাটি চালিয়েছিল রাজারবাগে। তিনি বলেন, “এখান থেকেই গণহত্যার সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের এই প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার মূল ভিত্তি।”

ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তানি কমান্ডারের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তিনি রাজারবাগে আক্রমণের খবর পান। রাজারবাগে পুলিশদের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান তার নিজস্ব সামরিক বেইজে ফিরে গিয়ে পাকিস্তানি কমান্ডারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বাঙালি অফিসারদের সাথে নিয়ে স্বাধীনতার ডাক দেন। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম ‘প্রভিশনাল হেড অফ দি স্টেট’ হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর সমর্থন কামনা করেন। এরপর তৎকালীন জাতীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে সংশোধিতভাবে পুনরায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এটাই প্রকৃত ইতিহাস।”

আজকের এই বিশেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং বীরাঙ্গনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এরপর তারা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের দিন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আমরা আবারও কুচকাওয়াজে ফিরছি। আমরা আশা করি, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। সব ক্ষেত্রে আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা বজায় রাখব।”

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজারবাগে হামলা জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণায় বাধ্য করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:২১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ত্বরান্বিত করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সবচেয়ে বড় গণহত্যাটি চালিয়েছিল রাজারবাগে। তিনি বলেন, “এখান থেকেই গণহত্যার সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের এই প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার মূল ভিত্তি।”

ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তানি কমান্ডারের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তিনি রাজারবাগে আক্রমণের খবর পান। রাজারবাগে পুলিশদের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান তার নিজস্ব সামরিক বেইজে ফিরে গিয়ে পাকিস্তানি কমান্ডারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বাঙালি অফিসারদের সাথে নিয়ে স্বাধীনতার ডাক দেন। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম ‘প্রভিশনাল হেড অফ দি স্টেট’ হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর সমর্থন কামনা করেন। এরপর তৎকালীন জাতীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে সংশোধিতভাবে পুনরায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এটাই প্রকৃত ইতিহাস।”

আজকের এই বিশেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং বীরাঙ্গনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এরপর তারা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের দিন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আমরা আবারও কুচকাওয়াজে ফিরছি। আমরা আশা করি, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। সব ক্ষেত্রে আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা বজায় রাখব।”

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।