ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩১ হাজার কোটি টাকার ইআরএল আধুনিকায়ন প্রকল্প অনুমোদন

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে তিন গুণের বেশি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, গত ২৩ ডিসেম্বর ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক (সভায়) অনুমোদন দেওয়া। একনেক সভায় অনুমোদনের পর ১০ ফ্রেব্রুয়ারি প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সরকারি এবং ৪০ শতাংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ইআরএলের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আধুনিকায়ন শেষে ইআরএলে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া নতুন রিফাইনারি ইউনিটে হেভি ও লাইট ক্রুড অয়েল ব্লেন্ডিং সুবিধা যুক্ত করা হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি নমনীয়তা আসবে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রায় ৫ বছর এবং বিনিয়োগের বিপরীতে সন্তোষজনক রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এ ছাড়া রিফাইনারি সম্প্রসারণের ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নির্মাণকাল ও পরবর্তী পরিচালন পর্যায়ে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইআরএল সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে স্থাপিত এই রিফাইনারির বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে এই সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশ—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এর মধ্যে মাত্র ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি.–এর মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত এই রিফাইনারিই দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার। সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে অবশিষ্ট প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধিত তেল বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে বার্ষিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

৩১ হাজার কোটি টাকার ইআরএল আধুনিকায়ন প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে তিন গুণের বেশি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, গত ২৩ ডিসেম্বর ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক (সভায়) অনুমোদন দেওয়া। একনেক সভায় অনুমোদনের পর ১০ ফ্রেব্রুয়ারি প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সরকারি এবং ৪০ শতাংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ইআরএলের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আধুনিকায়ন শেষে ইআরএলে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া নতুন রিফাইনারি ইউনিটে হেভি ও লাইট ক্রুড অয়েল ব্লেন্ডিং সুবিধা যুক্ত করা হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি নমনীয়তা আসবে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রায় ৫ বছর এবং বিনিয়োগের বিপরীতে সন্তোষজনক রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এ ছাড়া রিফাইনারি সম্প্রসারণের ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নির্মাণকাল ও পরবর্তী পরিচালন পর্যায়ে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইআরএল সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে স্থাপিত এই রিফাইনারির বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে এই সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশ—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এর মধ্যে মাত্র ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি.–এর মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত এই রিফাইনারিই দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার। সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে অবশিষ্ট প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধিত তেল বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে বার্ষিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।