ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৯৪০ কোটি ডলার

রপ্তানি আয়ের গতি কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৬৩ শতাংশ বেশি।

পাঁচ মাসের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ (৭.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন দুই হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে আমদানি হয়েছিল ২৬.০১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮.১৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র ০.৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮.০৭ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে ৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে দুই হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবেও ঘাটতির প্রবণতা স্পষ্ট।

জুলাই-আগস্ট দুই মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। তিন মাস শেষে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) ঘাটতি ছিল ৭৫৭ কোটি (৭.৫৭ বিলিয়ন) ডলার। 

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের প্রধান উৎস রপ্তানি আয়ও টানা কমছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ধরেই কমছে রপ্তানি আয়।

রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবেই রপ্তানি বাণিজ্যে এই নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মাসগুলোতেও এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।

পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৯৪০ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ০৭:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
রপ্তানি আয়ের গতি কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৬৩ শতাংশ বেশি।

পাঁচ মাসের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ (৭.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন দুই হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে আমদানি হয়েছিল ২৬.০১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮.১৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র ০.৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮.০৭ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে ৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে দুই হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবেও ঘাটতির প্রবণতা স্পষ্ট।

জুলাই-আগস্ট দুই মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। তিন মাস শেষে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) ঘাটতি ছিল ৭৫৭ কোটি (৭.৫৭ বিলিয়ন) ডলার। 

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের প্রধান উৎস রপ্তানি আয়ও টানা কমছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ধরেই কমছে রপ্তানি আয়।

রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবেই রপ্তানি বাণিজ্যে এই নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মাসগুলোতেও এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।