দেশের বাজারে জানুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দুই টাকা কমে ১০২ টাকা, কেরোসিন লিটারে দুই টাকা কমে ১১৪ টাকা, পেট্রলের দাম দুই টাকা কমে ১১৮ টাকা এবং অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা কমে ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ নতুন দর কার্যকর হয়। গত বুধবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে এসব কথা বলা হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ২০২৪ সালের মার্চ থেকে শুরু করেছে সরকার। সে হিসেবে প্রতি মাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন।
মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল ব্যবহার হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে। ডিজেল সাধারণত
কৃষি সেচে, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার করা হয়।জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আগে নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি।
এখন বিইআরসি প্রতি মাসে করছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।জ্বালানি বিভাগ জানায়, প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত বিশ্বে প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের বৃদ্ধি ও কমানো হচ্ছে।