মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার চীন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বন্ধের মধ্যস্থতার কৃতিত্ব দাবি করেছে। গত বছরের শুরুতে কয়েক দিনের ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছিল দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।
গতকাল বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের পর শান্তির মধ্যস্থতার দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও নয়াদিল্লি এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে।
এই যুদ্ধবিরতিতে অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা উড়িয়ে দেয় ভারত।
এদিকে ট্রাম্পের মতো, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বেইজিংকে উত্তর মায়ানমারের উত্তেজনা, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক সমস্যাসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতের জন্য শান্তি আলোচক হিসাবে তুলে ধরেছেন।
বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও চীনের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দেওয়ার সময় গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘এই বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে স্থানীয় যুদ্ধ ও সীমান্ত-আন্তঃ সংঘাত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়তে থাকে।
তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, আমরা একটি বস্তুনিষ্ঠ ও ন্যায্য অবস্থান নিয়ে লক্ষণ এবং মূল কারণ উভয়কেই মোকাবেলা করার দিকে মনোনিবেশ করেছি।’ ওয়াং ই তখন দাবি করেন যে ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এই বছর চীনের ‘মধ্যস্থতা’ করা হটস্পট ইস্যুগুলোর মধ্যে একটি। তিনি আরো দাবি করেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে উত্তর মায়ানমার, ইরানের পারমাণবিক সমস্যা, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সমস্যা এবং কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছি।’
এদিকে নয়াদিল্লি বলে আসছে যে ৭ মে থেকে শুরু হওয়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত দুই দেশের সেনাবাহিনীর ডিজিএমওর (সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক) মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
ভারত ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে যে ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই। এদিকে প্রতিবেদন বলছে, ৭-১০ মে ভারতের অপারেশন সিন্দূরে চীনের ভূমিকা গুরুতর তদন্ত এবং সমালোচনার মুখে পড়ে, বিশেষ করে ইসলামাবাদকে বেইজিংয়ের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি। এতে আরো বলা হয়, কূটনৈতিকভাবে বেইজিং ৭ মে ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিল।
ওই সময় ভারতের বিমান হামলা এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন আজ সকালে ভারতের সামরিক অভিযানকে দুঃখজনক বলে মনে করে।’
প্রসঙ্গত, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়।
হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ আছে অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দূর’ চালায় নয়াদিল্লি। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দিলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে দুই দেশের।