ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিগত তিন বছর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স হতাশাজনক থাকার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ বছর সবার নিচে ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অবস্থান। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় সব সূচকেই এসব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২০২৫ সালে ৬.৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে একই সময় পাকিস্তানের কেএসই সূচকটি ৪৫.২৯ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার সিএসইঅল সূচকটি ৪০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকটি ৮.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৮৪ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও বাজার মূলধন ২.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে ১৫.৭১ শতাংশ কমে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শেষে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বড় আর্থিক জরিমানা করলেও বাস্তবে আদায় হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব এ সময় দৃশ্যমান ছিল। ফলে ‘নামমাত্র’ যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বাজারে আস্থা তৈরি করেনি। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠিত হলেও তেমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বছর পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই বাজার থেকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত আরো আটটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।২০২৫ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল তার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি। সব মিলিয়ে বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও আশাহত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
বিগত তিন বছর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স হতাশাজনক থাকার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ বছর সবার নিচে ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অবস্থান। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় সব সূচকেই এসব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২০২৫ সালে ৬.৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে একই সময় পাকিস্তানের কেএসই সূচকটি ৪৫.২৯ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার সিএসইঅল সূচকটি ৪০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকটি ৮.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৮৪ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও বাজার মূলধন ২.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে ১৫.৭১ শতাংশ কমে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শেষে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বড় আর্থিক জরিমানা করলেও বাস্তবে আদায় হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব এ সময় দৃশ্যমান ছিল। ফলে ‘নামমাত্র’ যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বাজারে আস্থা তৈরি করেনি। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠিত হলেও তেমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বছর পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই বাজার থেকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত আরো আটটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।২০২৫ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল তার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি। সব মিলিয়ে বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও আশাহত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।