দীর্ঘদিনের অনিয়ম আর লুটপাটে দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবশেষে অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শেষ সুযোগ হিসেবে ৬ মাসের সময় পেয়েছে আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হলে আমানতকারীদের কী হবে? তাদের আটকে থাকা টাকা কবে নাগাদ ফেরত মিলবে?
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান। দীর্ঘ সময় ধরে ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকা ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলো না। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হবে। অর্থাৎ শুরু হলো এদের অবসায়ন প্রক্রিয়া।
পিকে হালদারসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম, লুটপাট আর অব্যবস্থাপনায় এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে। গ্রাহকের আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে বহু আগেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অবসায়ন হলে এখন কী হবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, এখন আদালত বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে একজন ‘অবসায়ক’ নিয়োগ দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করার ক্ষমতা থাকবে তার হাতে। সেই সম্পদ বিক্রির অর্থ এবং সরকারের দেওয়া বিশেষ তহবিল থেকে আমানতকারীদের পাওনা মেটানো হবে।
স্বস্তির খবর হলো, সাধারণ আমানতকারীদের টাকা মার যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অর্থাৎ রমজানের আগেই ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হবে। এ জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে।
তবে শর্ত একটাই—গ্রাহকরা কেবল তাদের জমাকৃত ‘আসল’ বা মূল টাকা ফেরত পাবেন। এতদিন ধরে জমা হওয়া কোনো লভ্যাংশ বা সুদ তাদের দেওয়া হবে না।
এদিকে, একই দশা হলেও এখনই বন্ধ হচ্ছে না জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি। নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়ে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য তারা ৬ মাস সময় পেয়েছে। ব্যর্থ হলে তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তি আমানতকারীরা টাকা ফেরত পেলেও, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এবং শেয়ারহোল্ডারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ থেকেই যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সব দায়-দেনা মেটানোর পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবেই শেয়ারহোল্ডাররা অর্থ পাবেন। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের যা আর্থিক অবস্থা, তাতে সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি একটি নজিরবিহীন কঠোর সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জনগণের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তবে রমজানের আগে সাধারণ গ্রাহকরা তাদের আসল টাকা বুঝে পেলেই কেবল এই অবসায়ন প্রক্রিয়ার সার্থকতা মিলবে।
মোফাজ্জল হোসেন 















