ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন, তাপমাত্রা নামল ১৩.৫ ডিগ্রিতে

উত্তরের সীমান্তবর্তী জনপদ কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, সঙ্গে বইছে কনকনে হিমেল বাতাস। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে জেলার তাপমাত্রার পারদ নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম নিম্ন তাপমাত্রা।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে পথঘাট। দৃষ্টিসীমা কমে আসায় দিনের বেলাতেও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে যানবাহন। বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে ফসলের মাঠ আর ঘাসের ডগায় জমছে ভোরের শিশির। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হয়, তবে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফের জেঁকে বসে শীত। মধ্যরাতের পর হিমেল হাওয়ার দাপট আরও বৃদ্ধি পায়।

শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে জবুথবু হয়ে দিন পার করছেন তারা। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

শীতের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলেন কুড়িগ্রাম শহরের ধরলা পাড় এলাকার বাসিন্দা ও রিকশাচালক আব্দুল বাতেন (৫০)। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পেটের দায়ে সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু ঠান্ডায় হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে (সিন্টি লেগে আসছে)। রিকশা নিয়ে বের না হলে সংসার চলবে না, আবার বের হয়েও যাত্রী পাচ্ছি না। ভাড়া না থাকায় খুব কষ্টে আছি।’

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ‘আজ সকালে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই কুয়াশা পড়ছে। আগামী দিনগুলোতে কুয়াশার ঘনত্ব এবং শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন, তাপমাত্রা নামল ১৩.৫ ডিগ্রিতে

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তরের সীমান্তবর্তী জনপদ কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, সঙ্গে বইছে কনকনে হিমেল বাতাস। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরের দিকে জেলার তাপমাত্রার পারদ নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম নিম্ন তাপমাত্রা।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে পথঘাট। দৃষ্টিসীমা কমে আসায় দিনের বেলাতেও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে যানবাহন। বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে ফসলের মাঠ আর ঘাসের ডগায় জমছে ভোরের শিশির। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হয়, তবে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফের জেঁকে বসে শীত। মধ্যরাতের পর হিমেল হাওয়ার দাপট আরও বৃদ্ধি পায়।

শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে জবুথবু হয়ে দিন পার করছেন তারা। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

শীতের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলেন কুড়িগ্রাম শহরের ধরলা পাড় এলাকার বাসিন্দা ও রিকশাচালক আব্দুল বাতেন (৫০)। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পেটের দায়ে সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু ঠান্ডায় হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে (সিন্টি লেগে আসছে)। রিকশা নিয়ে বের না হলে সংসার চলবে না, আবার বের হয়েও যাত্রী পাচ্ছি না। ভাড়া না থাকায় খুব কষ্টে আছি।’

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ‘আজ সকালে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই কুয়াশা পড়ছে। আগামী দিনগুলোতে কুয়াশার ঘনত্ব এবং শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।’