সান দিয়াগো চিড়িয়াখানার অন্যতম প্রবীণ সদস্য এবং ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী, গালাপাগোস কচ্ছপ ‘গ্র্যান্ডমা’ (Gramma) আর নেই। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে পৃথিবীর বুকে ধীরলয়ে হেঁটে চলা এই প্রাণীটি গত ২০ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাকে মানবিক উপায়ে চিরনিদ্রায় শায়িত করার (Euthanasia) সিদ্ধান্ত নেয়।
গ্র্যান্ডমা কেবল একটি কচ্ছপ ছিল না, সে ছিল চিড়িয়াখানার কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো। তার প্রিয় খাবার ছিল রোমাইন লেটুস এবং ক্যাকটাস ফল। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে একুশ শতক পর্যন্ত—দীর্ঘ এই সময়ে সে দেখেছে পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন। ধারণা করা হয়, ১৯২৮ বা ১৯৩১ সালের দিকে ব্রোঞ্জ চিড়িয়াখানা থেকে তাকে সান দিয়াগোতে আনা হয়েছিল।
১৪১ বছরের দীর্ঘ জীবনে গ্র্যান্ডমা সাক্ষী হয়েছে মানব সভ্যতার বহু চড়াই-উতরাইয়ের। সে দেখেছে:
- দুটি বিশ্বযুদ্ধ।
- ২০ জন ভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শাসনকাল।
- স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক ইন্টারনেটের যুগ।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল গ্র্যান্ডমা। সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বাস্থ্যের এতটাই অবনতি ঘটে যে, বেঁচে থাকাটাই তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গালাপাগোস কচ্ছপ প্রকৃতির এক বিস্ময়কর প্রাণী। বন্য পরিবেশে এরা সাধারণত ১০০ বছরের বেশি বাঁচে। তবে চিড়িয়াখানার সুরক্ষিত পরিবেশে বা বন্দি অবস্থায় এরা ১৭০ থেকে ২০০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে। ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গালাপাগোস কচ্ছপ হিসেবে ‘হ্যারিয়েট’-এর নাম শোনা যায়, যে অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানায় ১৭৫ বছর বয়সে (২০০৬ সালে) মারা যায়। হ্যারিয়েটকে ১৮৩৫ সালে চার্লস ডারউইন নিজে বা তার সময়কালে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।



















