গত ৪টা ফেব্রুয়ারী শনিবার লন্ডনের গেটউয়িক এয়ারপোটে পৌছি সকাল সাড়ে আটটায়। সাথে ছেলে এবং স্ত্রী ডঃ আনোয়ারা আলী, উদ্দেশ্য সুইজারল্যান্ড এর জুরিখে ইপিবিএ সুইজারল্যন্ড শাখার অভিষেক অনুষ্টানে যোগ দেয়া। সুইজারল্যান্ড এ এর আগে ও একবার গিয়েছিলাম। জেনেভা ঘুরে দেখছি। আমার ঘুরাঘুরি এখন আর ভালো লাগেনা। কোথাও যেতে ইচ্ছে করেনা। বয়স বাড়ছে, সেই সাথে বিরক্ত ও লাগে। লাগেজ টানাটানি, এয়ারপোর্টের চেকিং অসহ্য লাগে। কাপর চোপর টাউজারের ব্যাল্ট, জুতা থেকে শুরু করে এমন কোনো কিছু বাদ দেয়না। এত চেকিং কেন? নিজে নিজেকেই প্রশ্ন করি। উত্তর ও পেয়ে যাই। চারিদিকে যেভাবে বোমাবাজি হয় আতœঘাতি বোমা মেরে মানুষ মানুষকে ধ্বংস করে তাতে চেক না করে উপায় কি? চেকিং শেষ করে এগিয়ে যাই প্লেইনের দিকে। হঠাৎ পিছন থেকে একজন ডাকলেন ভাই কোথায় যাচ্ছেন? ফিরে তাকালাম, ছেলের কথা বাবা তোমি এখন আওয়ামীলীগ বিএনপি করা শুরু করবা না, সময় নেই ঘড়ির কাটা তখন ৯.২০ মিনিট। আমাদের ফ্লাইট ১০.৫ মিনিটে। ছেলেকে জিজ্ঞাস করি তুই আওয়ামীলগি বিএনপি বুঝলে কি করে? ছেলে আমার বড় হয়েছে ১৩ বছর বয়স, লম্বা হয়ে গেছে অনেক। আমাকে প্রায়ই বলে বাবা আমি অনেক লম্বা হয়ে গেছি। আমি বুঝবনা কেন? ভ্রদ্রলোকের ডাকে সারা দেই। বলি যাচ্ছি সুইজারল্যন্ডে। বললেন বৃহস্পতিবার না শুক্রবারে দেখলাম টক শো করছেন আজ দেখি চলে যাচ্ছেন বিদেশে। আপনাদের লাইফ ভাই ভালো, এনজয় করছেন, আমাদের মত সাধারন মানুষের লাইফ একগেয়ে, একপেশে, আরেকজন বলেছিলেন সারাদিন এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানো, রাতে টক শোতে হা হা রি রি করেন, রাজনীতিবীদদের ডেকে এনে জাতি উদ্ধার করেন। আপনাদের জীবন আসলেও ভালো, উত্তর দিতে পারিনা। বাসায় স্ত্রীর অত্যাচার, স্ত্রী বলে সারারাত টেলিভিশনের অফিসে বসে কি উদ্ধার করেন? স্ত্রীর সাথে কথা বাড়াইনা, কারন শুধু আমার স্ত্রী না অনেকের স্ত্রীরা মাঝে মধ্যে বেপাশ কথা বলে ফেলে। উত্তর দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গেটউয়িক এয়ারপোর্টের ভদ্রলোকের কথা শুনে মনে মনে বললাম নদীর এপার ছেড়ে ছাড়িয়ে নিঃশাস——-সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস। লন্ডনে একটি টেলিভিশন ষ্টেশন চালানো কত ধানে কত চাউল। চ্যানেল আই ইউরোপের ষ্টেশনটির আমি ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছি ২০০৯ থেকে। কত রকমের যন্ত্রনা যে ভোগ করতে হয় তা বলা বাহুল্য, ইদানিং নতুন একটি যন্ত্রনা যোগ হয়েছে আমার বিরুদ্ধে, কেউ কেউ আমাকে বিএনপির এজেন্ট বলে থাকেন। শুনে ভালো লাগে। আবার কেউ কেউ বলেন স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, আবার কেউ কেউ বলেন ভাই দেশে যাবেননা। আপনাকে ডিজিএফআই খুজছে, কেন? আমি নাকি সরকারের পলিসির বিরুদ্ধে কথা বলি। প্রথম অভিযোগ যারা করেন তাদেরকে বলি বিএনপি করা অথবা এজেন্ট হওয়া আমার দ্বারা সম্ভব হবেনা। কারন আমার শরীরে চামচামীর রক্ত নেই। আর ভাইয়ার দল আর জয় মামার দল আমি করতে পারবোনা। কারন এ দুটি দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করিনা। আর স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যারা বলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে হয় লন্ডনের মত জায়গায় ২০১৩ সালে স্বাধীনতার বিরোধীরা চ্যানেল আই ইউরোপের লন্ডনস্ত কার্যালয়ে এসএমএস করে লোকজন জড়ো হয়ে মিছিল করেছিল বাধ্য হয়ে লন্ডনের মেট্রপলিটান পুলিশ ডেকে তাদেরকে সরানো হয়েছিল। সে যাক, গেটউয়িক এয়ারপোর্টের সেই ভদ্রলোক বললেন ভাই নির্বাচন কমিশনার কে হচ্ছেন? নতুন নির্বাচন কমিশন কি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে? বললাম জানিনা। বললেন মিডিয়ায় কাজ করেন জানেননা? বললাম ভাই যে ই নির্বাচন কমিশনার হবে সে-ই আওয়ামী সমর্থক হবে। কারন আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন হতো। অতএব ভাই যদি মাইন্ড না করেন তাহলে এই সাত সকালে এই বস্তাপচা একটি ইস্যু নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা। জিজ্ঞাস করলেন যাবেন কোথায় বললাস সুইজারল্যন্ড, বললেন ঠিক আছে ভাই যান, তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে একটি টক শো করবেন অথবা একটি লেখা দিবেন? বললাম চেষ্টা করবো। ভদ্রলোকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পা বাড়ালাম প্লেইনের দিকে। সুইস এয়ারলাইন্স এ হাটতে হাটতে উঠলাম। বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট শাহজালাল বিমানবন্দর আর সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর দুটিই আমার কাছে ভালো লাগে। হাটতে হয়না। বিদেশের একেকটা এয়ারপোর্ট তৈরী করছে যেন হাটার জন্য। প্লেইনে উঠে চোখ বুলাই মোবাইল ফোনে ফেইস বুকের দিকে, ফেইস বুকে সুন্দরী এক মহিলার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখলাম, স্ত্রী হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, ভাবলাম রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করলে স্ত্রী খুচিয়ে খুচিয়ে কথা বলবে। সুজা ফেইসবুকের পেইজে চোখ রাখলাম সেখানে দেখলাম সার্চ কমিটি নামে একটি কমিটি সার্চ করবে। এর মধ্যে এক সাংবাদিকের ফোন বললেন নির্বাচন কমিশন যিনি হবেন তিনি জনতার মনচের নায়ক ছিলেন, পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাকে চাকুরীচ্যুত করে। সাংবাদিকের সাথে কথা বাড়ালামনা। ১ ঘন্টার মধ্যে পৌছলাম জুরিখ এয়ারপোর্টে, লাগেজের জন্য অপেক্ষা করছি এরই মধ্যে ফোন বেজে উঠে, বললেন ভাই আমি আনিস খান, জিকু ভাই আসছেন বলেছেন আপনাকে রিসিভ করতে, আপনি কোথায়? বললাম আমি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করছি, বললেন আমি আসছি, মনে মনে বলি লাগেজ সেকশনে উনি আসবে কি করে? ওটা তো বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট না। কিছুক্ষনের মধ্যে এসে আনিস ভাই হাজির। দেখলাম তার ব্যজ গলায় জুলছে, কুশল বিনিময়ের পর বললাম আপনি কি এয়ারপোর্টে কাজ করেন বললেন জি ভাই , পাল্টা প্রশ্ন করলাম কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসলেন উনাকে একটু সম্মান দিতে পারলেননা? আনিস ভাই বললেন কি ধরনের সম্মান? বললাম এয়ারপোর্টের ভিতর থেকে তো তাকে গাড়ী দিয়ে নেয়া যেত, আনিস ভাই হাসলেন বললেন ভাই কেউ যদি কিছু না বলে তাহলে গায়ে পড়ে কিভাবে বলি আমি কি করতে পারি বা পারবোনা। সে যাক অনিস ভাই চা কপি খাওয়ালেন, বাইরে অপেক্ষামান ইউরোপিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশী এসোসিয়েশনের জিকু ভাই ফ্রান্সের মনির ভাই সহ আরো দুএকজন এসেছেন আমাকে রিসিভ করার জন্য। তাদের সাথে কথা হলো কুশল বিনিময় হলো। আমারা গাড়ীতে উঠলাম। গাড়ীতে করে হোটেল ইবিসে এসে পৌছলাম। সন্দ্যার দিকে বের হলাম একটু ঘোরতে। ঘোরে জুরিখ লেইকের কাছে একটি কফি সপে ঢুকলাম। আমাদেরকে যিনি নিয়ে গেলেন তিনি বললেন এই কফি শপে এক সময় আইনষ্টাইন আর কমিউনিষ্ট নেতা লেনিন আড্ডা দিতেন। স্ত্রীকে জিজ্ঞাস করি আইনস্টাইন কে? স্ত্রী বলে ইস, তোমাকে নিয়ে আমি আর পারিনা। আমার স্মৃতি শক্তি ইদানিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাক আইনস্টাইন সাহেবকে চিনলাম কিন্তু লেনিন সাহেবের কথা মনে হতেই আমার মনে পড়ে বাংলাদেশের কথা, মনে হয় একটি বস্তাপচা মতবাদের কথা, সমাজ পরিবর্তনের কথা, হায়রে সমাজ পরিবর্তন, ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা কি এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে চিকা মারে “বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমি ই লেনিন”, এখনো কি আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী লেনিনের কথা বলেন? এখনো কি আমাদের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী লেনিনের আদর্শ বুকে লালন করে আওয়ামীলীগ করেন? এখনো কি আমাদের বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাহেব লেনিনের কথা বিপ্লবের কথা ছেলেদের বুঝান? আমি জানিনা, তবে আমার জানতে খুবই ইচ্ছে করে? এসব চিন্তা করতে করতে আমার মনে পড়ে সেই গানটির কথা তুমি কি সেই আগের মত আছো নাকি অনেক খানি বদলে গেছ? আমি যখন লেনিন সাহেবের কথা চিন্তা করে করে চিন্তার অতল গহব্বরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম তখন স্ত্রী বলে কি ব্যাপার আপনি কি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে না অন্য কোথাও, স্ত্রীর কথায় আমার ধ্যান ভাঙ্গে। বলি না, আমি একটু সময়ের জন্য চলে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে, সমাজ পরিবর্তনের নেতাদের প্রিয় মুখগুলো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল? কত হাজার হাজার তরুন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত ছিল লেনিনের আদর্শকে বুকে ধারন করতো, সমাজ পরিবর্তনের আশায় নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব, রাশেদ খান মেনন সাহেব, মতিয়া চৌধুরীদের মত নেত্রীদের পিছনে কত সময়ই না তারা নষ্ট করেছে, সময়ের বিবর্তনে নেতারা বদলে গেছেন, লেনিনের আদর্শ মুখ থুবরে পড়েছে টিএএসসির মুড়ে, অপরাজেয়র বাংলার পাদদেশে, মধুর কের্ন্টীনের সামনে, আসাদের রক্তভেজা শার্ট তাদের আদর্শের পতাকা হলেও এখন সেসব নেতারা বর্জুয়াদের দলে ভিড়ে গেছেন, তারা জীবনের সন্ধ্যাবেলায় এসে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী হয়েছেন, এমপি হয়েছেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন সমাজ টমাজ পরিবর্তন হবেনা, নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে।
সে যাক, জুরিখ লেইকের অডিয়ন কপি শপ থেকে বের হওয়ার সময় আমার মনে অনেক প্রশ্নেরই উদ্রেক হয়েছিল! মনে মনে ভাবি লন্ডনের গেটউয়িক এয়ারপোর্টের ভদ্রলোকের কথা, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কি পারবে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন উপহার দিতে? মহামান্য রাষ্টপতি যাদেরকে নিয়োগ করেছেন তাদের ব্যাপারে কথা বলা বিয়াদবীর পর্যায়ে পড়ে! আমি বলতে চাইনা, কিন্তু যখনই নির্বাচন আসে তখনই এই মাজা-ভাঙ্গা প্রেমিক নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হয় কেন? কেন এই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্বে কথা উঠে? দেশ স্বাধীনের ৪৪ বছর অতিক্রান্ত হওযার পর ও কেন এই নির্বাচন কমিশন ঠিক হলোনা? আর কবে হবে? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে এ্ই নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে? নির্বাচন কমিশনের যে অবস্তা তাতে মাজা ভাঙ্গা প্রেমিকদের কথাই মনে পড়ে, ঐ যে মাজা-ভাঙ্গা প্রেমিকরা যখন একটি মেয়েকে ভালোবাসে মেয়েটির যখন বিয়ে ঠিক হয় তখন মেয়েটি গিয়ে যখন প্রেমিককে বলে তার বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে প্লিজ আমাকে বিয়ে করো, তখন প্রেমিক বলে আমি তো তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা, কারন তোমাকে বিয়ে করলে তো খাওয়াতে পারবোনা, থাকবো কোথায় তোমাকে নিয়ে, মেয়ে যখন বলে তাহলে ভালোবেসেছিলে কেন? তখন বলে আবেগের বশবর্তী হয়ে ভালোবেসেছিলাম, তুমি বিয়ে করে ফেল, আর আমি ব্যর্থ প্রেমিকের অভিনয় করে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিব আর গান শুনবো চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে আমার বলার কিছু ছিলনা। আজিজ কমিশন রকিব কমিশন অতীতে তাই করেছেন ব্যর্থ প্রেমেিকর গান শুনেছেন, বর্তমান নুরুল হুদা কমিশন ও কি তাই করবে? আমি জানিনা। সময়ই হয়তো বলে দিবে!!!! তবে অতীত অভিজ্ঞতা যেহেতু মোটেই সুখককর নয় অতএব বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমি হতাশ,হতাশ এবং হতাশ!!!
লেখক: রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শোয়েব
এডিটরিয়াল প্রেসিডেন্ট
বাংলা ষ্টেইটমেন্টস ডট কম
মাজা ভাঙ্গা নির্বাচন কমিশন কবে ঠিক হবে?
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
- 3030
জনপ্রিয় সংবাদ


























