ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শামীম ওসমানের অবিশ্বাস্য প্রেম কাহিনী!

শামীম ওসমানের অবিশ্বাস্য প্রেম কাহিনী!

প্রেম যে কাঁঠালের আঠা, লাগলে ছাড়ে না। সত্যিকারের প্রেমের অনুভূতি এক অদ্ভূত অনুভূতি। প্রেমে পড়লেও যেমন জ্বালা আবার এর স্বাদ না পেলেও থেকে যায় অতৃপ্তি। সেটির উদাহরণ যদি হয় একজন প্রভাবশালী নেতা তাহলে তো আর কথাই নেই। একটি ত্যাড়া নারীর পিছে ঘুরে ঘুরে যেভাবে তার মন জয় করেছেন সেই নেতার কথাই বলছি।

শামীম ওসমান। তিনি যেমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তেমনি একজন প্রেমিকও বটে। কিন্তু তাকে প্রেম করতে হয়েছে বেশ ধকল সয়ে। কারণ প্রেমটা তার সহজ ছিল না। প্রেমিকাকে পেতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে। সহজেই ধরা না দেওয়ায় শামীম ওসমানকে কবজ করাসহ অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সেই প্রেম কাহিনীর কথা জানতো না অনেকেই। সেই প্রেম কাহিনীর আদ্যোপান্ত অবশেষে বর্ণনা করলেন তিনি। জানিয়েছেন কিভাবে সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেম করেছেন। দেখা করেছেন।

এর আগে শামীম ওসমান অনেকবার সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেমের কথা বললেও পুরো বিষয় এবারই জানিয়েছেন বেশ খোলাসাভাবে।
জানালেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র রাজনীতি করা অবস্থায় সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়াসহ তার মন জয়ের জন্য কবিরাজের সহায়তা এবং বন্ধুদের সহযোগিতার কথা। শুধু তাই নয় বোমা, গুলি, হামলা-মামলা এসব কিছু ভয় না পেলেও লিপি ওসমানের কাছে ভীতু ছিলেন বলেও জানান তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ’আমি কোন দিন ভয় পাই না। এ কলেজে একদিন ভয় পাইছিলাম। ভয় পাইয়া এক দৌড় দিয়ে এ কলেজের প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেছি। আমারে গুলি করছে আমি ভয় পাই নেই, আমার উপরে বোমা মারছে আমি ভয় পাই নাই, পুলিশ ধরতে আসছে ভয় পাই নাই, সেনাবাহিনী ধরতে আসলে ভয় পাই না, কিন্তু সেইদিন ভয় পাইছিলাম। কারণ আমার পেছনে যে মহিলা (স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি) বসে আছেন, আমি ওনার পিছে পিছে একটু ঘুরতাম।

বেশি চান্স দিতো না। যেহেতু চান্স দেয় নাই বহুত ত্যাড়া মহিলা ছিল। এজন্য পিছে একটু বেশিই ঘুরতাম। একটা পর্যায়ে ঘুরতে ঘুরতে ভাবলাম যে চান্স যখন দিলো না এটারেই বিয়া কইরাম। কিন্তু বাবা ছিল খুব কঠিন মানুষ। ভাইয়েরা আমাকে খুব শাসন করতো। আমি যখন তোলারাম কলেজের ভিপি। তখনও মাগরিবের নামাজের পর বাসায় ঢুকতে পারতাম না। মাগরিব পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বাসায় যেতে হবে এবং হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসতে হবে। আমি যত বড় যত কিছুই হই না কেন। আমার এ দুঃখ আমার বন্ধু বান্ধবের ভাল্লাগে না।

এই যে হাই হুতাশ করি আল্লাহরে কি করে একে পাওয়া যায়। এতে আমার বন্ধুদের সহ্য হইলো না। আমার দুই বন্ধু একটা মারোয়ারী, আরেকটা বন্ধু আছে এখন কানাডায়। ওরা বললো, আমার দুঃখে দুঃখিত হয়েছে। আমার কষ্টে কষ্টিত হয়েছে। ৮৫/৮৬ সালের ঘটনা। দেখলাম এতগুলি গোল মরিচ নিয়ে এসেছে। এরকম পাঁচ কেজি গোল মরিচ। আমি বললাম কি? বলে এগুলো গোল মরিচ। আমি বলি কি করতে হবে।বলে সকাল বেলা সাতটা গোল মরিচ ফজরের নামাজের আগে উঠাইয়া চুলার মধ্যে ছেড়ে দিবি। তারপর কি হবে? তারা বললো গোল মরিচ যখন জ্বলবে তখন ওর (সালমা লিপি) মন আমার জন্য জ্বলে উঠবে। সাত দিন লাগবে বেটা। তারপর দেখবি তোর জন্য দৌড়াই চলে আসবে।

তাই বন্ধুর কথায় ট্রাই করতে অসুবিধা কি। প্রতিদিন সকাল বেলা উইঠাই রান্না ঘরে চুলার মধ্যে গোল মরিচ পোড়াই। একদিন হঠাৎ করে পোড়ানোর সময় পিছনের চেয়ে দেখি বাবা দাঁড়াইয়া আছে। বাবা জিজ্ঞাসা করে রান্না ঘরে কি করো। এর মধ্যে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। বাবা বলছে কি করো টস টস করে আওয়াজ হচ্ছে কেনো। বলছি গোল মরিচ পোড়াচ্ছি। বলে কেন পোড়াচ্ছো। মিথ্যা করে বলি আব্বা আমারে এক ফকির বলছে ফজরের নামাজের আগে যদি এ গোল মরিচ পোড়ালে নাকি বাসার ভিতরে কোন খারাপ জিনিস আসতে পারবে না। এভাবেই মরিচ পোড়া তাবিজ অবশেষে……..

শামীম ওসমানের অবিশ্বাস্য প্রেম কাহিনী!

আপডেট সময় : ১০:২১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

শামীম ওসমানের অবিশ্বাস্য প্রেম কাহিনী!

প্রেম যে কাঁঠালের আঠা, লাগলে ছাড়ে না। সত্যিকারের প্রেমের অনুভূতি এক অদ্ভূত অনুভূতি। প্রেমে পড়লেও যেমন জ্বালা আবার এর স্বাদ না পেলেও থেকে যায় অতৃপ্তি। সেটির উদাহরণ যদি হয় একজন প্রভাবশালী নেতা তাহলে তো আর কথাই নেই। একটি ত্যাড়া নারীর পিছে ঘুরে ঘুরে যেভাবে তার মন জয় করেছেন সেই নেতার কথাই বলছি।

শামীম ওসমান। তিনি যেমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তেমনি একজন প্রেমিকও বটে। কিন্তু তাকে প্রেম করতে হয়েছে বেশ ধকল সয়ে। কারণ প্রেমটা তার সহজ ছিল না। প্রেমিকাকে পেতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে। সহজেই ধরা না দেওয়ায় শামীম ওসমানকে কবজ করাসহ অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সেই প্রেম কাহিনীর কথা জানতো না অনেকেই। সেই প্রেম কাহিনীর আদ্যোপান্ত অবশেষে বর্ণনা করলেন তিনি। জানিয়েছেন কিভাবে সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেম করেছেন। দেখা করেছেন।

এর আগে শামীম ওসমান অনেকবার সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেমের কথা বললেও পুরো বিষয় এবারই জানিয়েছেন বেশ খোলাসাভাবে।
জানালেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র রাজনীতি করা অবস্থায় সালমা আক্তার লিপির সঙ্গে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়াসহ তার মন জয়ের জন্য কবিরাজের সহায়তা এবং বন্ধুদের সহযোগিতার কথা। শুধু তাই নয় বোমা, গুলি, হামলা-মামলা এসব কিছু ভয় না পেলেও লিপি ওসমানের কাছে ভীতু ছিলেন বলেও জানান তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, ’আমি কোন দিন ভয় পাই না। এ কলেজে একদিন ভয় পাইছিলাম। ভয় পাইয়া এক দৌড় দিয়ে এ কলেজের প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেছি। আমারে গুলি করছে আমি ভয় পাই নেই, আমার উপরে বোমা মারছে আমি ভয় পাই নাই, পুলিশ ধরতে আসছে ভয় পাই নাই, সেনাবাহিনী ধরতে আসলে ভয় পাই না, কিন্তু সেইদিন ভয় পাইছিলাম। কারণ আমার পেছনে যে মহিলা (স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি) বসে আছেন, আমি ওনার পিছে পিছে একটু ঘুরতাম।

বেশি চান্স দিতো না। যেহেতু চান্স দেয় নাই বহুত ত্যাড়া মহিলা ছিল। এজন্য পিছে একটু বেশিই ঘুরতাম। একটা পর্যায়ে ঘুরতে ঘুরতে ভাবলাম যে চান্স যখন দিলো না এটারেই বিয়া কইরাম। কিন্তু বাবা ছিল খুব কঠিন মানুষ। ভাইয়েরা আমাকে খুব শাসন করতো। আমি যখন তোলারাম কলেজের ভিপি। তখনও মাগরিবের নামাজের পর বাসায় ঢুকতে পারতাম না। মাগরিব পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বাসায় যেতে হবে এবং হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসতে হবে। আমি যত বড় যত কিছুই হই না কেন। আমার এ দুঃখ আমার বন্ধু বান্ধবের ভাল্লাগে না।

এই যে হাই হুতাশ করি আল্লাহরে কি করে একে পাওয়া যায়। এতে আমার বন্ধুদের সহ্য হইলো না। আমার দুই বন্ধু একটা মারোয়ারী, আরেকটা বন্ধু আছে এখন কানাডায়। ওরা বললো, আমার দুঃখে দুঃখিত হয়েছে। আমার কষ্টে কষ্টিত হয়েছে। ৮৫/৮৬ সালের ঘটনা। দেখলাম এতগুলি গোল মরিচ নিয়ে এসেছে। এরকম পাঁচ কেজি গোল মরিচ। আমি বললাম কি? বলে এগুলো গোল মরিচ। আমি বলি কি করতে হবে।বলে সকাল বেলা সাতটা গোল মরিচ ফজরের নামাজের আগে উঠাইয়া চুলার মধ্যে ছেড়ে দিবি। তারপর কি হবে? তারা বললো গোল মরিচ যখন জ্বলবে তখন ওর (সালমা লিপি) মন আমার জন্য জ্বলে উঠবে। সাত দিন লাগবে বেটা। তারপর দেখবি তোর জন্য দৌড়াই চলে আসবে।

তাই বন্ধুর কথায় ট্রাই করতে অসুবিধা কি। প্রতিদিন সকাল বেলা উইঠাই রান্না ঘরে চুলার মধ্যে গোল মরিচ পোড়াই। একদিন হঠাৎ করে পোড়ানোর সময় পিছনের চেয়ে দেখি বাবা দাঁড়াইয়া আছে। বাবা জিজ্ঞাসা করে রান্না ঘরে কি করো। এর মধ্যে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। বাবা বলছে কি করো টস টস করে আওয়াজ হচ্ছে কেনো। বলছি গোল মরিচ পোড়াচ্ছি। বলে কেন পোড়াচ্ছো। মিথ্যা করে বলি আব্বা আমারে এক ফকির বলছে ফজরের নামাজের আগে যদি এ গোল মরিচ পোড়ালে নাকি বাসার ভিতরে কোন খারাপ জিনিস আসতে পারবে না। এভাবেই মরিচ পোড়া তাবিজ অবশেষে……..