ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর কত বড় হলে ওবায়দুল কাদেরের কাণ্ডজ্ঞান হবে, প্রশ্ন দুদুর

আর কত বড় হলে ওবায়দুল কাদেরের কাণ্ডজ্ঞান হবে, প্রশ্ন দুদুর

রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির সক্ষমতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তার পরিপক্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।রাজপথে মিছিল করার সাহস ও দৃঢ়তা বিএনপির নেই দাবি করে দলটিকে শক্ত করে দাঁড়ানোর জন্য ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া পরামর্শকে ‘বালসুলভ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার চট্টগ্রাম নগরীতে এক অনুষ্ঠানে দুদু বলেন, “পুলিশকে একটু পুলিশের মত রাখেন না, তারপর মাঠে নামেন দেখি, আমরাও নামব। আপনি পুলিশ-র‌্যাব নিয়ে চলবেন, মাঝে মাঝে মিলিটারিও সাথে রাখবেন, বিএনপিকে আক্রমণের মুখে রেখে শক্ত করে দাঁড়াতেও বলবেন।

“এগুলো বালসুলভ আচরণ ও কথা। আপনার বয়স আর কত বাড়লে আপনি বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনি আর কত বড় হলে কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনার বয়স তো পয়ষট্টি বা সত্তরের কাছাকাছি বোধহয়। এত বুদ্ধিহীনভাবে কথা বলেন কেন? আমরা তাকে প্রশ্ন করতে চাই।”

‘কে কত শক্ত’, সেটা প্রমাণ করতে চট্টগ্রামে সমাবেশ করার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানান বিএনপির এই নেতা।

“আসেন না একদিন খোলা মাঠে মিটিং করি, চট্টগ্রামে আসেন। আপনি প্রথম দিন মিটিং করেন। আমরা পরের দিন করব। যদি আপনি আমাদের থেকে অর্ধেক লোক দেখাতে পারেন তারপরও আপনাকে আমরা সফল বলব। আমাদের যে জনসমর্থন আপনি তো মিটিং করতে দেন না।”

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাইপাস সড়কের কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে গত শনিবার চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুলে এক সমাবেশে বিএনপিকে ‘দিশেহারা’ আখ্যায়িত করে তাদের নিয়ে চিন্তা না করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

তিনি বলেন, “বিএনপিকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন নেই। বিএনপি পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিক। তাদের ৫৯৬ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি। এ কমিটি দিয়ে রাজপথে মিছিল করারও দৃঢ়তা- সাহস তাদের নেই।”

তবে বিএনপির আন্দোলনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এই বক্তব্যের তিনদিন পর মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ভোটের রাজনীতিতে দলটিকে হালকাভাবে না নিতে দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন কাদের।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে ওই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে কৃষকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এই প্রস্তুতি সভায় আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পেয়ে ‘অধিকারহারা’ করছে বলে মন্তব্য করে নেতাকর্মীদেরকে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু।

তিনি বলেন, “আমি শেষ কথাটা বলব, উঠে দাঁড়াতে হবে। কেউ কারও দয়ায় এখানে রাজনীতি করে না।

“খালি আওয়ামী লীগ ও তার গুণ্ডাপাণ্ডারা ভোট দেবে, সেটা তো আর চলতে পারে না। সেটা থেকে বেরিয়ে আসার যে রাস্তা, সেটা আমরা সম্মেলনে খোঁজার চেষ্টা করব। সামনের নির্বাচনটাকে আমরা গণঅভ্যুত্থানে রুপান্তর করতে চাই।”

আওয়ামী লীগ দেশে সকল রাজনৈতিক দলের অধিকার হরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এ সাধারণ সম্পাদক।

“এ কোন রাজনৈতিক অধিকার, সভা-সমাবেশের অধিকার দেশে নাই। কখনো কখনো ঘরের মধ্যে সমাবেশ করতে দেয়। শুধু ঢাকাতে নয়, জেলা, উপজেলা, থানায় এমনকি ইউনিয়নেও এ বাধা জারি আছে।

“আওয়ামী লীগের সমাবেশের সময় পুলিশ সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেবে, জেলার মধ্যে হলে স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে, কিন্তু বিরোধী দল সমাবেশ করতে পারবে না। এটাই এখন আওয়ামী লীগের নীতি।”

পুলিশের প্রতি সরকারের নিয়ন্ত্রণকে বিস্ময়কর বলেও আখ্যায়িত করেন বিএনপি নেতা দুদু।

সিইসি ছাত্রলীগের ক্যাডার

নবনিযুক্ত সিইসিকে এক সময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার দাবি করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আওয়ামী লীগ আরেকটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। আমরা সেটা জাতিকে জানিয়েছি।

“গণতন্ত্রকে কবরস্থ করার যে নির্বাচন, সেটা এ সরকার, এ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। জনতার মঞ্চের ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডারকে সিইসি করে আবারো আরেকটি ৫ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট তৈরিতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ।”

বিএনপির আমলে কৃষি উপকরণের যে দাম ছিল, বর্তমানে তার কয়েকশ গুণ বেশি দামে কৃষককে এসব উপকরণ কিনতে হচ্ছে বলে সভায় দাবি করেন তিনি।

“বিএনপির আমলে ২৫০ টাকা দরে সার পেত কৃষক। এখন সে সার ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের কৃষক এখন তার উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। বিদ্যুৎ ও সেচের বর্ধিত দামে কৃষক এখন দিশেহারা।”

দুদু দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের হাতে স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি প্রথম আঘাত এসেছিল। শেখ মুজিবর রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে ঢুকে গণতন্ত্রকে একদলীয় শাসনে রূপান্তর করে পার্লামেন্ট থেকে বের হয়েছিলেন।”

১৯৮২ সালে ‘অস্ত্রের মুখে’ এরশাদের ক্ষমতারোহনকে আওয়ামী লীগ সমর্থন জানিয়েছিল বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

প্রতিনিধি সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এম এ তাহের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম বক্তব্য রাখেন।

আর কত বড় হলে ওবায়দুল কাদেরের কাণ্ডজ্ঞান হবে, প্রশ্ন দুদুর

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আর কত বড় হলে ওবায়দুল কাদেরের কাণ্ডজ্ঞান হবে, প্রশ্ন দুদুর

রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির সক্ষমতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তার পরিপক্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।রাজপথে মিছিল করার সাহস ও দৃঢ়তা বিএনপির নেই দাবি করে দলটিকে শক্ত করে দাঁড়ানোর জন্য ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া পরামর্শকে ‘বালসুলভ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার চট্টগ্রাম নগরীতে এক অনুষ্ঠানে দুদু বলেন, “পুলিশকে একটু পুলিশের মত রাখেন না, তারপর মাঠে নামেন দেখি, আমরাও নামব। আপনি পুলিশ-র‌্যাব নিয়ে চলবেন, মাঝে মাঝে মিলিটারিও সাথে রাখবেন, বিএনপিকে আক্রমণের মুখে রেখে শক্ত করে দাঁড়াতেও বলবেন।

“এগুলো বালসুলভ আচরণ ও কথা। আপনার বয়স আর কত বাড়লে আপনি বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনি আর কত বড় হলে কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন হবেন। আপনার বয়স তো পয়ষট্টি বা সত্তরের কাছাকাছি বোধহয়। এত বুদ্ধিহীনভাবে কথা বলেন কেন? আমরা তাকে প্রশ্ন করতে চাই।”

‘কে কত শক্ত’, সেটা প্রমাণ করতে চট্টগ্রামে সমাবেশ করার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানান বিএনপির এই নেতা।

“আসেন না একদিন খোলা মাঠে মিটিং করি, চট্টগ্রামে আসেন। আপনি প্রথম দিন মিটিং করেন। আমরা পরের দিন করব। যদি আপনি আমাদের থেকে অর্ধেক লোক দেখাতে পারেন তারপরও আপনাকে আমরা সফল বলব। আমাদের যে জনসমর্থন আপনি তো মিটিং করতে দেন না।”

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাইপাস সড়কের কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে গত শনিবার চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুলে এক সমাবেশে বিএনপিকে ‘দিশেহারা’ আখ্যায়িত করে তাদের নিয়ে চিন্তা না করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

তিনি বলেন, “বিএনপিকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন নেই। বিএনপি পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিক। তাদের ৫৯৬ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি। এ কমিটি দিয়ে রাজপথে মিছিল করারও দৃঢ়তা- সাহস তাদের নেই।”

তবে বিএনপির আন্দোলনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এই বক্তব্যের তিনদিন পর মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ভোটের রাজনীতিতে দলটিকে হালকাভাবে না নিতে দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন কাদের।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে ওই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে কৃষকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এই প্রস্তুতি সভায় আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পেয়ে ‘অধিকারহারা’ করছে বলে মন্তব্য করে নেতাকর্মীদেরকে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু।

তিনি বলেন, “আমি শেষ কথাটা বলব, উঠে দাঁড়াতে হবে। কেউ কারও দয়ায় এখানে রাজনীতি করে না।

“খালি আওয়ামী লীগ ও তার গুণ্ডাপাণ্ডারা ভোট দেবে, সেটা তো আর চলতে পারে না। সেটা থেকে বেরিয়ে আসার যে রাস্তা, সেটা আমরা সম্মেলনে খোঁজার চেষ্টা করব। সামনের নির্বাচনটাকে আমরা গণঅভ্যুত্থানে রুপান্তর করতে চাই।”

আওয়ামী লীগ দেশে সকল রাজনৈতিক দলের অধিকার হরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এ সাধারণ সম্পাদক।

“এ কোন রাজনৈতিক অধিকার, সভা-সমাবেশের অধিকার দেশে নাই। কখনো কখনো ঘরের মধ্যে সমাবেশ করতে দেয়। শুধু ঢাকাতে নয়, জেলা, উপজেলা, থানায় এমনকি ইউনিয়নেও এ বাধা জারি আছে।

“আওয়ামী লীগের সমাবেশের সময় পুলিশ সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেবে, জেলার মধ্যে হলে স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে, কিন্তু বিরোধী দল সমাবেশ করতে পারবে না। এটাই এখন আওয়ামী লীগের নীতি।”

পুলিশের প্রতি সরকারের নিয়ন্ত্রণকে বিস্ময়কর বলেও আখ্যায়িত করেন বিএনপি নেতা দুদু।

সিইসি ছাত্রলীগের ক্যাডার

নবনিযুক্ত সিইসিকে এক সময়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার দাবি করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আওয়ামী লীগ আরেকটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। আমরা সেটা জাতিকে জানিয়েছি।

“গণতন্ত্রকে কবরস্থ করার যে নির্বাচন, সেটা এ সরকার, এ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। জনতার মঞ্চের ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডারকে সিইসি করে আবারো আরেকটি ৫ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট তৈরিতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ।”

বিএনপির আমলে কৃষি উপকরণের যে দাম ছিল, বর্তমানে তার কয়েকশ গুণ বেশি দামে কৃষককে এসব উপকরণ কিনতে হচ্ছে বলে সভায় দাবি করেন তিনি।

“বিএনপির আমলে ২৫০ টাকা দরে সার পেত কৃষক। এখন সে সার ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের কৃষক এখন তার উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। বিদ্যুৎ ও সেচের বর্ধিত দামে কৃষক এখন দিশেহারা।”

দুদু দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের হাতে স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি প্রথম আঘাত এসেছিল। শেখ মুজিবর রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে ঢুকে গণতন্ত্রকে একদলীয় শাসনে রূপান্তর করে পার্লামেন্ট থেকে বের হয়েছিলেন।”

১৯৮২ সালে ‘অস্ত্রের মুখে’ এরশাদের ক্ষমতারোহনকে আওয়ামী লীগ সমর্থন জানিয়েছিল বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

প্রতিনিধি সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এম এ তাহের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম বক্তব্য রাখেন।